এক সময় ব্রহ্মপুত্র নদ জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করত। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে এবং ক্রমাগত ভাঙনের ফলে নদীটি এখন সড়কের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার হরিপুর, শরিফপুর ও নান্দিনা এলাকার বিভিন্ন অংশে তীব্র ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নদীতীর সংরক্ষণ করা না হলে মহাসড়কের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে জামালপুরের সঙ্গে ময়মনসিংহের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি এই জেলার সঙ্গে ময়মনসিংহ এবং রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। তবে ব্রহ্মপুত্রের ডান তীরের ভাঙন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে মহাসড়কটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হরিপুর, শরিফপুর ও নান্দিনা এলাকায় নদীটি ক্রমেই সড়কের দিকে এগিয়ে আসছে।
প্রতি বছর নদীতে পানি বাড়লে বা কমলে এই এলাকাগুলোতে ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়দের মতে, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে নদী একসময় মহাসড়কের ওপর আঘাত হানবে। এতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুই জেলার সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই তারা ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি স্থানে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
হরিপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রিদয় মিয়া বলেন, “আমরা যখন একটু ছোট আছিলাম, তখন দেখছি ব্রহ্মপুত্র নদ কমপক্ষে এক কিলো এখান থেকে দূরে আছিল। আর এহন ভাঙতে ভাঙতে একেবারে রাস্তার কাছে আইসা পড়ছে। যে কোনো সময় রাস্তাসহ ভাইঙা যাব। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না নিলে রাস্তাসহ চলে যাব নদে।”
নান্দিনা এলাকার বাসিন্দা আজাদ বলেন, “খালি শরিফপুর-নান্দিনা না, যে জায়গায় নদী চাইপা সড়কের সঙ্গে আসছে, সেই জায়গায় ক্ষতি হইব, রোডটারে ক্ষতি করব, রোডটা ভাইঙ্গা-চিইড়া যাবগা। এইজন্যে আমরা আবেদন করি, আপনারা এইডা একটু লক্ষ্য করেন। কাজ করতে হবে।”
একই এলাকার বাসিন্দা রোহান বলেন, “এটা জামালপুর হইতে ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ হইতে ভালুকা, ঢাকা পর্যন্ত মেইন রোড, হাইওয়ে রোড। ধ্বংস হইতে বেশি টাইম রাগবো না। ধ্বংস হবারই আছে, আর কিচ্ছু নাই। ভাঙতে ভাঙতে নদী চাপাইয়া দিছে, একদম ধ্বংস হয়া যাব।”
ভৌগোলিক হিসেবে জামালপুর থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহের দূরত্ব প্রায় ৫৪ কিলোমিটার, যেখানে নদীপথে এই দূরত্ব ১০৮ কিলোমিটার। ফলে মহাসড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প পথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ব্যয় হবে এবং চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। তবে হরিপুর এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
এই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “হরিপুর অংশে ১ হাজার ৩০০ মিটার নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য ইতোমধ্যে একটি ফিজিবিলিটি সম্পন্ন হয়েছে। এই ফিজিবিলিটি প্রস্তাবনা মোতাবেক আমরা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ১ হাজার ৩০০ মিটার অংশে নদীতীর সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।”
মহাসড়কটি রক্ষা করতে বাকি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।