কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সংঘাত তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির। একই সাথে তিনি দলের সব পদবি ত্যাগ করে জামায়াতের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে হুমায়ুন কবির তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’

তবে উল্লেখ্য যে, পোস্টটি করার কিছুক্ষণ পরেই তিনি তা মুছে ফেলেন। পরবর্তীতে তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজাখালীর চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানান।

শনিবার দুপুরে জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন সাতটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের জন্য দলীয় প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। ঘোষিত সেই তালিকায় বারবাকিয়ায় এএইচএম বদিউল আলম, রাজাখালীতে মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মগনামায় শহীদুল মোস্তফা চৌধুরী, টইটংয়ে মাওলানা হাসান শরীফ, শিলখালীতে মোহাম্মদ ইলিয়াছ, উজানটিয়ায় মাওলানা আবু শরীফ এবং নবগঠিত পেকুয়া সদর ইউনিয়নে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির উপজেলা জামায়াতের রুকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে ২০১৬ এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তিনি জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি।’

নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।’

অন্যদিকে, প্রার্থী নির্বাচনে অর্থ লেনদেন বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ নাকচ করেছেন পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন।

তিনি জানান, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংগঠনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিনের দাবি, এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো সুযোগ ছিল না।

প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সক্ষমতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাই এ নিয়ে কারও অভিযোগ থাকার কথা নয়।