কক্সবাজারের পেকুয়ায় নুরুস সোলতান (১৮) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির নিকটবর্তী সড়কের পাশে একটি গাছের ডালে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তার মৃতদেহটি পাওয়া যায়। নিহতের স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শুল্লখালি এলাকায়। নিহত নুরুস সোলতান ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলামের পুত্র।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যবর্তী সময়ে নুরুস সোলতান বাড়ি থেকে বের হন। সেই সময় তার বাবা তার বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে নুরুস জানান, মানিক নামের এক বন্ধু তাকে মুঠোফোনে ডাকছেন। এরপরই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।
পরবর্তীতে রাত দেড়টার দিকে নজরুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি বাড়ি ফেরার পথে সড়কের পাশে একটি গাছে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে মরদেহটি নুরুস সোলতানের বলে শনাক্ত করেন এবং দ্রুত তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন।
নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “রাত দেড়টার দিকে এলাকার লোকজন এসে ছেলের মরদেহ গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়ার খবর দেন। আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।”
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, তরুণের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
পেকুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরুল হাসান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই তরুণের সঙ্গে এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে আমরা শুনেছি। প্রেমঘটিত কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”