আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করার সুযোগ থাকছে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এছাড়া, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাঁরা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন অথবা হবেন, কেবল তাঁরাই এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, হালনাগাদ করা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ২৫ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে।

আজ শনিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে জারি করা দুটি পৃথক নির্দেশনায় এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ইতিপূর্বে ঘোষণা করেছে ইসি। সাধারণত নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় আগে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য ভোটার এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে তাঁকে অবশ্যই ওই এলাকার ভোটার হতে হয়।

ইসির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য যোগ্যতা অর্জনের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারণ করেছে ইসি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বা তার আগে জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ইসির ডেটাবেজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন, তাঁদের ভোটার তালিকাভুক্ত করা হবে।

নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত করে মাঠপর্যায়ে লিংক পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর পরদিন ৫ নভেম্বর হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই খসড়া তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, তথ্যের ভুলত্রুটি কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে দাবি–আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন করার সুযোগ থাকবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এসব আবেদনের নিষ্পত্তির শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ নভেম্বর। সবশেষে, ২৫ নভেম্বর হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তা জনসাধারণের পরিদর্শনের যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য আবেদন করতে জনগণকে আহ্বান জানাতে হবে। এই উদ্দেশ্যে মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে ইমাম ও পুরোহিতদের মাধ্যমে নামাজ বা প্রার্থনার আগে কিংবা পরে ঘোষণা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক ও কেব্‌ল অপারেটরের মাধ্যমে জনস্বার্থে এ বিষয়ে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকায় পুরুষ ভোটারের তালিকায় নারী ভোটার অন্তর্ভুক্তি, নারী ভোটারের তালিকায় পুরুষ ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং ধর্মসংক্রান্ত ভুলত্রুটিসহ অন্য কোনো অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরেকটি পৃথক নির্দেশনায় ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩১ অক্টোবর। এই সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত আবেদনগুলো ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ-সংক্রান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করে উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।