পাবনার সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া হাটে দুই রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঘটনার ৪৫ ঘণ্টা পর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে নিহত শ্রমিক দল নেতা রিপন হোসেনের ভাই রুবেল হোসেন বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
আতাইকুলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "মলায় অজ্ঞাত ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।"
ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশি অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের কোনো সূত্র উদ্ঘাটন করা গেছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, "এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত চলছে।"
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া হাটে প্রতিপক্ষের গুলিতে দুজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই হাটের ইজারাদার।
নিহতরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ও হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী (৫৫) এবং তার ভাগনে আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৫০)। আব্দুস সালাম ধর্মগ্রাম এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে এবং রিপন একই এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আব্দুস সালামকে জামায়াতের বিভিন্ন মিছিল ও সমাবেশে দেখা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় বর্তমান ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী ও তার ভাগনে রিপন হোসেন হাটের পাশে নিজেদের কার্যালয়ে বসে নাশতা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রতিপক্ষের কয়েকজন মুখোশধারী সেখানে এসে তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
আক্রান্তদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাদের বাঁচাতে পারেননি।