ডেঙ্গু প্রতিরোধে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে দেশীয় মাছের ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, স্থানীয় প্রজাতির কিছু মাছ মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। গবেষণায় বিশেষ করে নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ এবং ব্লু পাঞ্চাক্স মাছের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, মশার লার্ভা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এই দেশীয় মাছগুলো বিদেশি গাপ্পি মাছের চেয়ে অনেক বেশি সফল, এমনকি অত্যন্ত দূষিত পানির পরিবেশেও এরা কার্যকর থাকে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নাপিত খয়রা মাছ কিউলেক্স ও এডিস মশার ৯৩-৯৪% লার্ভা খেয়ে ফেলেছে, যা গাপ্পি মাছের ক্ষেত্রে ছিল মাত্র ৫৬.৫-৬১.৫%।

এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে অধ্যাপক কবিরুল বাশার জানিয়েছেন যে, এই কৌশলটি সারা দেশে প্রয়োগ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুর যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে এই পদ্ধতিটি সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই পদ্ধতিটি বড় পরিসরে কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি।