উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। এ বছর বোর্ডের অধীন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস বেগম।
বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ৭২ হাজার ৭৪৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৫৯৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী।
শতভাগ পাস করা ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো সিলেট ক্যাডেট কলেজ, শাহজালাল এনজিএফএফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, শমসেরনগর, ছাতিন বিশ্বনাথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাজী আব্দুল হাকিম হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আইডিয়াল ভিশন কলেজ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫০ জন, শাহজালাল এনজিএফএফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩১ জন, বিএএফ শাহীন কলেজ, শমসেরনগর থেকে ২৩৮ জন, ছাতিন বিশ্বনাথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন, হাজী আব্দুল হাকিম হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন এবং আইডিয়াল ভিশন কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন।
অন্যদিকে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
এ বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার গত বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে। ছাত্রীদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছেন। এ বছর ৬১৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ছাত্রীদের মধ্যে এ সংখ্যা ৫৯১।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে এ হার ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০২০ সালে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
বোর্ডসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। ওই বছর আগের এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সে বছর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কিছু নম্বর বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত করা হয়। এসব কারণে ওই দুই বছরের পাসের হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।