১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) নির্বাচন। এটি দেশের প্রকৌশলীদের একমাত্র স্বীকৃত সংগঠন। বর্তমানে রমনার প্রকৌশলী ভবনে চলছে ব্যাপক মতবিনিময়, পোস্টার লাগানো এবং প্যানেল ঘোষণা। তবে আইইবির গঠনতন্ত্রের ৩০.০৭ ধারায় প্যানেলভিত্তিক প্রচারণার বিষয়ে স্পষ্ট বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এসব কার্যক্রম চলছে।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইইবির নিজস্ব মিলনায়তনেই প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে জরুরি সভা ডেকে প্রার্থীদের নিয়মের কথা মনে করিয়ে দিতে হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রকৌশলী সংগঠনের ভেতর থেকেও অভিযোগ উঠেছে যে, প্যানেলে জায়গা পেয়েছেন বিগত সরকারের সুবিধাভোগীরাও।
নির্বাচনী সময়ে প্রার্থীরা ফোন এবং এস এম এস পাঠিয়ে ভোটারদের অতিষ্ঠ করে তুলছেন, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, বিগত ১৫ বছর ধরে দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের পর এই প্রার্থীদের অধিকাংশকেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন দেখার বিষয়, এই নির্বাচন আইইবিকে প্রকৃত প্রকৌশলীদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফিরিয়ে আনবে, নাকি ক্ষমতার পালাবদলে কেবল ক্লাবের সাইনবোর্ড পরিবর্তিত হবে। নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীরা যদি এবারও তাদের চাহিদা পূরণ হতে না দেখেন, তবে তারা আইইবির দিকে আর ফিরে তাকাবেন না—এটি মনে রাখা জরুরি।
আইইবির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ফেলো, ৫০ শতাংশ মেম্বার এবং বাকিরা অ্যাসোসিয়েট সদস্য। তবে ভোট দেওয়ার অধিকার কেবল ফেলো ও মেম্বারদের। ফলে সদ্য পাস করা তরুণরা তাদের ইয়াং ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের নেতা নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেন না, যদিও সেই পদে এবারও নির্বাচন হচ্ছে। ২০১১ সালে ৩০ হাজারের বেশি সদস্যের মধ্যে ভোটার ছিলেন ১৪ হাজারের কিছু বেশি; তবে এবারের মোট ভোটার সংখ্যা আইইবি প্রকাশ্যে আনেনি। এছাড়া প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও ঢাকাকেন্দ্রিকতা স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে ঢাকা কেন্দ্রের আসন ২৭টি, অথচ সিলেট, বরিশাল, ফরিদপুর ও দিনাজিসহ আটটি কেন্দ্রের আসন শূন্য রয়েছে।
আইইবি কেবল একটি সমিতি নয়। এর অধীনে রয়েছে প্রকৌশল শিক্ষার স্বীকৃতি বোর্ড (বিএইটিই), যা ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের পূর্ণ সদস্য এবং পেশাদার প্রকৌশলী নিবন্ধন বোর্ড (বিপিইআরবি)। বিএনবিসি ২০২০ অনুযায়ী, রাজউকে ভবনের নকশা জমা দিতে বিপিইআরবি-র নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার চূড়ান্ত সই এই প্রতিষ্ঠানের হাতে। অথচ বিপিইআরবি-র হিসাব মতে, দেশে পেশাদার প্রকৌশলী (পিইঞ্জ) মাত্র ৬০৫ জন এবং আন্তর্জাতিক পেশাদার প্রকৌশলী একজনও নেই। আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বোর্ডটি ২০০১ সাল থেকে কেবল অস্থায়ী সদস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।
কাগজে প্যানেলের কথা না থাকলেও বাস্তবে বহু বছর ধরে এখানে দুই দলীয় প্ল্যাটফর্ম লড়াই করেছে এবং মূলত ক্ষমতার কাছের পক্ষই জয়ী হয়েছে। এক দশকেরও বেশি আগে বিরোধী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ক্ষমতাসীনদের প্যানেলে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, যিনি বছর ঘুরতেই সংসদ সদস্য হন। তাঁর প্যানেলের ইশতেহারে প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল সরকারি সংস্থায় গ্রেড-১ ও পদ বাড়ানো এবং ৬৮৭ কোটি টাকার কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ। অন্যদিকে, বেসরকারি প্রকৌশলীদের চাকরির নীতিমালা ছিল তালিকার তিন নম্বরে, যা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আগের কমিটি পদত্যাগ করে। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর এক বিশেষ সভায় অ্যাবের মহাসচিব ১০টি নাম প্রস্তাব করেন এবং উপস্থিত সদস্যদের সমর্থনে তা চূড়ান্ত হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে এক অসাধারণ সাধারণ সভা ঘিরে আইইবির ফটকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীরা আওয়ামীপন্থীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে টিয়ারশেল ছুড়তে হয়। দুই আমলেই আইইবির শীর্ষ পদগুলো পেশার প্রতিনিধিত্বের চেয়ে রাষ্ট্রীয় বা দলীয় পদে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। দল বদলেছে, কিন্তু ক্লাবের সংস্কৃতি বদলায়নি।
বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্বের হার ছিল ১৩.৫ শতাংশ, যা জাতীয় হারের প্রায় তিন গুণ। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে প্রকৌশলীদের চারটি প্রধান দাবি রয়েছে। প্রথমত, বেসরকারি প্রকৌশলীদের সুরক্ষা। আইইবির সাধারণ সম্পাদক গত মে মাসে নিজেই বলেছেন, "দেশের ৭০ শতাংশের বেশি প্রকৌশলী বেসরকারি খাতে; বেতন কম, চাকরি অনিশ্চিত, নোটিশ ছাড়া ছাঁটাইও হয়, অথচ কোনো চাকরিবিধি নেই।" একই প্রতিশ্রুতি ২০২৩ সালের ইশতেহারে ছিল, কিন্তু তিন বছর পরও আইইবি একই কথা বলছে। বিপরীতে, এলজিইডির ছয় শতাধিক প্রকৌশলীকে ক্যাডারভুক্ত করার প্রস্তাব সরকারের টেবিলে থাকলেও বেসরকারি প্রকৌশলীদের দাবি উপেক্ষিত।
দ্বিতীয়ত, পেশার মানদণ্ড। ২০২৫ সালে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা 'প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন'-এর ব্যানারে মাসের পর মাস আন্দোলন, শাহবাগ অবরোধ এবং ক্যাম্পাসে কমপ্লিট শাটডাউন দিয়েছেন। তাদের মূল দাবি ছিল নবম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ এবং ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি করা। পাশাপাশি দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদ, যা বর্তমানে শুধু ডিপ্লোমাধারীদের জন্য, তা বিএসসিদের জন্যও উন্মুক্ত করা। আইইবি এই আন্দোলনে পাশে দাঁড়িয়েছে, পাঁচ দফা বিবৃতি দিয়েছে এবং রূপরেখা কমিটি গঠন করেছে। সভাপতি আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেও প্রত্যাশিত সক্রিয়তা দেখা যায়নি।
বিশ্ব যখন এআই যুগে প্রবেশ করছে, তখন যাদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা, আইইবি এখনো ব্যক্তিগত সুবিধার সনাতন যুগে পড়ে আছে। ৭৮ বছরে আইইবি অনেক সরকার দেখেছে। এবার তাদের সদস্যদের এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকানো প্রয়োজন। অন্যথায় আগামী প্রজন্মের কাছে আইইবি হবে রমনার একটি পুরোনো ভবন, যার সামনে দিয়ে তারা হেঁটে যাবেন, কিন্তু ভেতরে ঢুকবেন না।
পাঁচ দফার দাবিগুলো ছিল মূলত সরকারি গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে। এক বছর পর আন্দোলনের নেতারা বলছেন, নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগে ৬৭ শতাংশের বিধান থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে ৩৩ শতাংশের মতো। এর মধ্যেই পেট্রোবাংলার একটি বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেড-৯ সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) পদে বিএসসির সমমান ধরা হয়েছে চার বছরের ডিপ্লোমা এবং পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাকে। ডিপ্লোমাধারীরা দেশের অপরিহার্য শক্তি, তবে প্রশ্নটি অবজ্ঞার নয়, বরং মানদণ্ডের।
তৃতীয়ত, শিক্ষার মান। বিএইটিই-র তালিকায় স্বীকৃতি পেয়েছে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৯টি প্রোগ্রাম, অথচ ২০২০ সালে দেশে প্রকৌশল প্রোগ্রাম ছিল ২৭১টি। আইইবির সদস্যপদের শর্ত হলো আইইবি-র "স্বীকৃত" ডিগ্রি, বিএইটিই-র অ্যাক্রেডিটেশন নয়। আন্তর্জাতিক মানে সই করে অভ্যন্তরীণ মানদণ্ড শিথিল রাখা সংগতিপূর্ণ নয়। চতুর্থত, সিদ্ধান্তের টেবিলে প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ। আইইবি নিজেই স্বীকার করেছে যে, প্রকৌশল সংস্থার শীর্ষে অকারিগরি ব্যক্তি বসানো হচ্ছে এবং প্রকৌশলীদের বছরের পর বছর চলতি দায়িত্বে রাখা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে কিছু শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। পাকিস্তানে ১৯৭৬ সালের আইনে গঠিত ইঞ্জিনিয়ারিং কাউন্সিল প্রকৌশলীদের নিবন্ধন ও পরীক্ষা নেয়, আর পেশাজীবী সমিতি থাকে আলাদা। আমাদের দেশে লাইসেন্স এবং শিক্ষার স্বীকৃতি—দুটোই ১৮৬০ সালের সোসাইটি আইনে নিবন্ধিত একটি সমিতির অধীনে, যার নেতৃত্ব নির্ধারিত হয় দলীয় প্যানেলে। আন্তর্জাতিক প্রকৌশল জোটে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও টেকনিশিয়ানের জন্য তিনটি আলাদা চুক্তি (ওয়াশিংটন, সিডনি ও ডাবলিন) রয়েছে। যুক্তরাজ্যে চার্টার্ড, ইনকরপোরেটেড ও টেকনিশিয়ান উপাধি আইনে সুরক্ষিত এবং পদোন্নতি হয় পরীক্ষা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে, কোটায় নয়। প্রকৌশলী বনাম ডিপ্লোমার বিরোধ মেটানোর পথও এটাই।
দক্ষতা ধরে রাখার বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স অস্ট্রেলিয়ায় চার্টার্ড স্বীকৃতি টিকিয়ে রাখতে প্রতি তিন বছরে অন্তত ১৫০ ঘণ্টা সিপিডি করতে হয়, যার অংশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বাধ্যতামূলক এবং তা নিরীক্ষা করা হয়। বিপিইআরবি-ও বছরে ৩০ ঘণ্টা সিপিডি চায়, তবে কতজন তা পূরণ করছেন এবং নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, তার হিসাব প্রকাশ্য নয়।
সদস্যকেন্দ্রিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারতের ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সে ১৪ দিন ধরে অনলাইনে ভোট হয়। সিঙ্গাপুরে অ্যাসোসিয়েট সদস্যরাও কাউন্সিলে প্রতিনিধি বেছে নেন। অন্যদিকে, আমাদের প্রবাসী প্রকৌশলীদের পোস্টাল ব্যালটের আবেদন বন্ধ হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর, যা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। অর্থাৎ প্রার্থী কে, তা না জেনেই ব্যালটের আবেদন করতে হয়েছে। ই-ভোটিং ঝুঁকিপূর্ণ বলে কেউ বলতে পারেন, কিন্তু যে দেশের প্রকৌশলীরা ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার সফটওয়্যার তৈরি করেন, সেখানে সমস্যা সক্ষমতার নয়, বরং সদিচ্ছার। পেশাজীবী সংগঠনে রাজনীতি থাকতে পারে, তবে দলীয় পরিচয় যেন প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত না চালায়। একটি স্বাধীন আইইবি সরকারেরও প্রয়োজন, যা বড় প্রকল্পের নকশা বা ব্যয় নিয়ে স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন দেবে। বর্তমান নেতৃত্বই বলেছে, আগের বহু প্রকল্প দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত ছিল। দলীয় ক্লাব এই কাজ করতে পারে না।
তাই দীর্ঘ ইশতেহারের বদলে প্রয়োজন প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা এবং প্রতি ছয় মাসে প্রকাশ্য অগ্রগতি প্রতিবেদন। এছাড়া নির্বাহী পদধারীদের দলীয় পদ ও সরকারি নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করে স্বার্থের সংঘাত ঘোষণা করতে হবে। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, ৩০.০৭ ধারা ভঙ্গ করলে শাস্তি এবং অনলাইন ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। অ্যাসোসিয়েট সদস্যদের অন্তত ইয়াং ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টার ও তরুণ প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার দিতে হবে। বেসরকারি প্রকৌশলীদের জন্য ছয় মাসে মডেল চাকরিবিধি, ন্যূনতম বেতনের প্রস্তাব এবং বার্ষিক বেতন জরিপ প্রয়োজন। বিএইটিই স্বীকৃতি ছাড়া সদস্যপদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর কেবল স্বীকৃত প্রোগ্রামের স্নাতকেরা সদস্য হবেন। বিপিইআরবি ও বিএইটিই-কে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার আইনি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক পূর্ণ সদস্যপদের সময়বদ্ধ পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্বচ্ছতার জন্য নিরীক্ষিত হিসাব, শ্রেণি, খাত, অঞ্চল ও লিঙ্গভিত্তিক সদস্য পরিসংখ্যান এবং প্রকল্প টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
একই সাথে কেউ আইইবি এবং আইডিইবি-র সদস্য হতে পারবেন না, কারণ এটি সম্পূর্ণ স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest)। এই চিত্র কেবল আইইবি-র নয়, বরং অধিকাংশ পেশাজীবী সংগঠনই দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে তারা পেশাজীবীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না এবং সম্মিলিত যোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে। প্রকৌশলীদের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশের এডিপির প্রায় ৭০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয় তাদের হাত ধরে। ফরচুন ৫০০ কোম্পানির ৪৬ শতাংশ সিইও প্রকৌশলী। দেশ থেকে যত মেধাবী বিদেশে যাচ্ছেন বা গবেষণা করছেন, তাদের বেশিরভাগই প্রকৌশলী।
বিশ্ব যখন এআই যুগে যাচ্ছে, আইইবি তখনো ব্যক্তিগত সুবিধার সনাতন যুগে পড়ে আছে। ৭৮ বছরে আইইবি অনেক সরকার দেখেছে। এবার সে নিজের সদস্যদের এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকাক। নইলে আগামী প্রজন্মের প্রকৌশলীদের কাছে আইইবি হবে রমনার একটি পুরোনো ভবন, যার সামনে দিয়ে তাঁরা হেঁটে যাবেন, ভেতরে ঢুকবেন না।
— সুবাইল বিন আলম, প্রকৌশলী ও অর্থনীতিবিদ; আইইবির লাইফ ফেলো, টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক লেখক। ই–মেইল: [email protected]
(মতামত লেখকের নিজস্ব)