আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম আসার আগেই লোডশেডিংয়ের প্রকোপ হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত 'ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার' (ডিটিআরএস) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য যে, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এবং বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) যৌথভাবে এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শতভাগ বিদ্যুতায়নের মিথ্যা তথ্য দিয়ে উৎসব পালন করেছে। অথচ সারাদেশের মতো ময়মনসিংহ বিভাগেও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কার্যকর কাজ করেনি। ওই সময় ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঞ্চালনের উপযুক্ত লাইন তৈরি করা হয়নি। ফলে এ অঞ্চলের মানুষকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে ভুগতে হয়েছে। বর্তমান সরকার এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ময়মনসিংহে লোডশেডিং কমবে বলে আশা করছি।”

ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগটি কেবল ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এটি সহায়ক হবে।

এই কর্মসূচির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দুটি আবাসিক বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এবং ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের বাড়ি, যেখানে ২০ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতার সিস্টেম বসানো হয়েছে। অন্যটি ভালুকার বাসিন্দা মো. সোহেল রানার বাড়ি, যেখানে ব্যাটারিসহ ৫ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পুরো অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। উক্ত অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ভালুকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।