মাত্র ৪০ রানের সামান্য লিড নিয়ে দিন শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। হাতে ছিল মাত্র ৬টি উইকেট। স্কোরবোর্ডে আরও ৫০ রান যোগ করতে গিয়ে তারা হারায় আরও একটি উইকেট।

টেল এন্ডারে ঠাসা শেষ পাঁচ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা আর কতটুকু এগোতে পারবে—এমনটাই যখন ধারণা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই অটল হয়ে দাঁড়ালেন রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডার। ছয় ও সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা এই দুই ব্যাটসম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার লিডকে শুধু দেড়শ বা দুইশ রানের ঘরেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

রিকেলটনের ১০১ এবং মুল্ডারের ১১৫ রানের দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরির ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামীকাল পঞ্চম ও শেষ দিনে কেবল কেপটাউন টেস্টের ফয়সালাই হবে না, বরং সমতায় থাকা এই সিরিজের ভাগ্যও নির্ধারিত হবে।

ষষ্ঠ উইকেটে রিকেলটন ও মুল্ডার মিলে যোগ করেন ১৫৪ রান। প্রায় দুই সেশন ধরে তারা অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১০১ রান করে রানআউটে ফেরেন রিকেলটন। তবে তাঁর বিদায়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকা আরও একটি ধাক্কা খায়; মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান আরও তিন ব্যাটসম্যান।

সেই কঠিন সময়েও ক্রিজে অবিচল ছিলেন মুল্ডার। শেষ ব্যাটসম্যান কাগিসো রাবাদাকে নিয়ে তিনি দলকে আরও অনেকটা পথ টেনে নিয়ে যান। রাবাদাকে যতটা সম্ভব স্ট্রাইক থেকে দূরে রেখে নিজেই রান সংগ্রহ করতে থাকেন মুল্ডার।

শেষ উইকেটে দুজনের ৩৬ রানের জুটিতে ৩৩ রানই ছিল মুল্ডারের। শেষ পর্যন্ত প্যাট কামিন্সের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তাঁর ২২১ বলের ১১৫ রানের ইনিংসটি। ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৮৭ রানের লিড এনে দিয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ছয় বা তার নিচের পজিশনে নেমে একই ইনিংসে দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির ঘটনা এটি চতুর্থবার। এর আগে সর্বশেষ এমন কীর্তিটি ছিল ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গেবেখায়, যেখানে ফাফ ডু প্লেসি ও ডিন এলগার সেঞ্চুরি করেছিলেন।

এখন রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ২৮৮ রান। কেপটাউনে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড অবশ্য রয়েছে। ২০০২ সালে এই মাঠেই ৩৩১ রান তাড়া করে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজটা সহজ হবে না। উইকেটে স্পিনারদের জন্য কিছুটা সহায়তা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমাররা শেষ দিনে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।