জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা এবং সহকারী অর্থমন্ত্রী মিমুরা আতসুসির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু। জাপানের অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় ও দিক নিয়ে কথা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমকে বৈঠকের এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকের মূল আলোচনায় বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রচলিত ধারার বাইরে বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমান সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে যৌথভাবে কাজ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত পোষণ করেন। জাপানের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি সামনে রেখে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহলজাহাজ সরবরাহের জন্য জাপান ২১২ কোটি ইয়েন পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে। এছাড়া আরও দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মোট ৪৬৬ কোটি ইয়েন ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের ভূমিকা অপরিসীম। জাপানের অর্থায়নে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর, ঢাকার মেট্রোরেল, যমুনা রেলসেতু এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণসহ বেশ কিছু মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানের সহায়তায় মোট ৮০টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।
উক্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।