বগুড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান ৮০ জন নেতাকর্মী জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাবেক শহর সভাপতি। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১০ জন।

গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠসংলগ্ন জেলা এনসিপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন সদস্যদের বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে নবাগতদের স্বাগত জানান জাতীয় ছাত্রশক্তির রাজশাহী বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এ এম জেড শাহরিয়ার জুহিন।

যোগদানকারীদের তালিকায় হাফেজ গোলাম কিবরিয়া, মো. আহসান হাবিব, আসিফ মাহমুদ, মো. শাওন ও মিনহাজুল আবেদিনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গোলাম কিবরিয়া বগুড়া শহর জোন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং তিনি জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। অন্যান্য যোগদানকারীদের মধ্যে কেউ কেউ ছাত্রশিবিরের সাবেক দায়িত্বশীল, কেউ সদস্য এবং কেউ কেউ বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ব্যক্তিগত ইচ্ছায় তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব বলে তার মনে হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।”

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম কিবরিয়া জানান, তিনি বগুড়া শহর শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এখন নিজের ইচ্ছায় এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, তার সঙ্গে আরও ৮০ জন নেতাকর্মী এই দলটিতে যোগ দিয়েছেন।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে শাহরিয়ার জুহিন বলেন, “ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এনসিপি। বগুড়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক মানুষ দলটিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের স্বাগত জানাতে পেরে তারা আনন্দিত। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি কাজ করছে। মানুষ পুরোনো ধারার গতানুগতিক রাজনীতির পরিবর্তে নতুন ধারার রাজনীতি প্রত্যাশা করছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে দলটি কাজ করে যাচ্ছে।”

এনসিপির মনোনীত বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহরিয়ার জুহিন আরও জানান, তিনি বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। নবাগত নেতাকর্মীদের সহায়তায় আগামী নভেম্বরের মধ্যে বগুড়া জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দলের কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এছাড়া পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড পর্যায়েও সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে বলে তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে উপজেলা কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী দিনে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে এনসিপিকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে চান তাঁরা।”