বগুড়া জেলা শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের পাশে অবস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অস্থায়ী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। এই অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ এনসিপির তালাবদ্ধ কার্যালয়ের সামনে আগুন জ্বলে ওঠে। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুনটি নিভে যায়। আগুনের লেলিহান বস্তিতে কার্যালয়ের সামনে লাগানো ব্যানার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শাটারের ওপর কালো দাগ পড়েছে।

এই ঘটনার বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, "এনসিপি জেলা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।"

অগ্নিসংযোগের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দলটির পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দলটির নেতাদের দাবি, রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পেট্রল ঢেলে কার্যালয়ে এই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ বলেন, "দলীয় কর্মকাণ্ড শেষে গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে কার্যালয়ে তালা দিয়ে নেতা-কর্মীরা চলে যান। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পেট্রল ঢেলে কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এতে কার্যালয়ের বাইরে টানানো ব্যানার ফেস্টুন পুড়ে যায়। তবে কার্যালয়ের আসবাব অক্ষত আছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে।"

রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এ ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন মাহমুদ। তাঁর ভাষ্য, "রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও আগুন দেওয়া কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।"

ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাজনীতির মূল শক্তি হলো সহনশীলতা, যুক্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমিয়ে রাখা যায় না। বগুড়াসহ সারা দেশে সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।