বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনার পাশাপাশি তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) টঙ্গী মাজার বস্তি এলাকা থেকে উক্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, ‘তাহসিফের মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়, তার ঠিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।’

তবে উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি তাহসিফেরই কি না, তা নিশ্চিত হতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সদরদপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। আমরা তদন্তে নৌপুলিশকে সহায়তা করছি।’

ঘটনার গভীরে যেতে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে যার ডাকে তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। হেফাজতে নেওয়ার পর দীপের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ ব ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “দীপ বলেছেন, ‘আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি।’ দীপের এ কথাসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”

শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, ‘দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।’ তবে তদন্তের গোপনীয়তা এবং স্বার্থ বিবেচনা করে এই মুহূর্তে সেই তথ্যগুলো প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। মরদেহের সাথে থাকা হাতঘড়ি এবং পকেটে পাওয়া আইফোনের সূত্র ধরে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এটি কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ।

বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ওইদিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সুরতহাল প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান মরদেহটি শনাক্ত করেন। আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার কে এম তাহসিফের কপাল স্বাভাবিক এবং মুখমণ্ডল গোলাকার ছিল। মুখ ও চোখ বন্ধ থাকলেও তার মুখে ছোট কালো দাড়ি-গোঁফ ছিল এবং হাত দুটি মাথার সামনের দিকে বাঁকা অবস্থায় পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাহসিফের নাক দিয়ে রক্ত বের হলেও শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শরীরের সব অঙ্গ স্বাভাবিক এবং হাতের মুষ্টি খোলা থাকলেও পেট ফোলা ছিল বলে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

এদিকে, তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম তার ছেলের এই রহস্যজনক মৃত্যুতে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং একে একটি পরিকল্পিত মৃত্যু হত্যা বলে দাবি করেছেন।