ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান জোটের শরিক দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) এখন গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এই তথ্যটি দেশটির চ্যানেল ১৩-এর একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হয়েছে পার্লামেন্ট নির্বাচন। বর্তমানে ভোট গণনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যাচ্ছে যে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আরব দলগুলো ১৯টি আসন লাভ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এককভাবে ২৭টি আসন পেতে যাচ্ছে। তাঁর জোটের অন্যতম শরিক ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ৭টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই জোটের অন্যান্য দলের মধ্যে ইতামার বেন গভিরের দল ওৎমা ইহুদিত ৭টি, আরিয়েহ দেদির দল শাস ৬টি এবং বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি (আরজেডপি) ৬টি আসন পাচ্ছে।

এর ফলে লিকুদ পার্টির পর নেতানিয়াহুর এই জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে ইউটিজে। বৃহস্পতিবার চ্যানেল ১৩-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মঙ্গলবার নির্বাচনের পর ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের (ইউটিজে) সদস্যরা বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যদিও আইজেনকট ও তাঁর জোটের সঙ্গে ইউটিজের আদর্শিক ও রাজনৈতিক বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান, তবুও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা না থাকার কারণেই ইউটিজে নেতারা আইজেনকটকে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।

চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন আরও জানায়, নির্বাচনের এক্সিট পোল প্রকাশের পর থেকেই তারা ইউটিজের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে। ইউটিজে নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা আইজেনকোটের একটি ফোন কলের অপেক্ষায় রয়েছেন। দলটির প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন যে, তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা আইজেনকটের সঙ্গে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে প্রস্তুত। তবে আইজেনকোট এখন পর্যন্ত ইউটিজের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি বলে চ্যানেল ১৩ উল্লেখ করেছে।

জেরুজালেম পোস্টের খবরে আরও বলা হয়েছে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে তাঁর দল ইয়াশার এককভাবে ২১টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই জোটের বি’ইয়াসাদ ১২টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং ইয়াসরায়েল বেইতেইনু ৭টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং মনসুর আব্বাসের দল রাআম ৮টি আসন পাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কারা সরকার গঠন করবে কিংবা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনো অস্পষ্ট। কারণ, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করবে কি না, সে বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। এই অবস্থায় উদারপন্থী ইহুদিরা আরবদের সঙ্গে জোট করার জন্য বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এখনো ‘ডাবল এনভেলপ’–এর ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার বিশেষ ব্যালট গণনা করা বাকি। এই ভোট গণনার পর বর্তমান সমীকরণে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। সেনাসদস্য, কারাবন্দী ও কূটনীতিকদের দেওয়া এই বিশেষ ভোটের ফলে একটি বা দুটি আসনের ব্যবধানই সরকার গঠনের দর-কষাকষিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।