নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল চরদিঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামের টিটিরচর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এই টেঁটাযুদ্ধ সংঘটিত হয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ভোরে সংঘর্ষের খবর তাঁরা পেয়েছেন। এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিৎরামপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে চাঁন মিয়া পক্ষ এবং শহীদ মেম্বার পক্ষের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত দুই মাসে এই এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে চার-পাঁচবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আজ ভোরে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টিটির চর এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকেরা টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২৪ জন ব্যক্তি টেঁটাবিদ্ধ হয়ে অথবা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। স্বজনরা দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নরসিংদীর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে পুলিশি গ্রেপ্তার হতে পারে—এমন ভয়ে তাঁরা আহতদের নরসিংদীর হাসপাতালে নিয়ে যাননি।

শহীদ মেম্বার পক্ষের মমিন মিয়া নামের একজন ব্যক্তি জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তাঁরা নিজেদের বাড়িঘরে যেতে পারছেন না। বাড়িতে ফিরতে গেলেই তাঁদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, “আজ ভোরে সংঘর্ষে তাঁদের পক্ষের ১২ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ককটেল বিস্ফোরণে রমজান নামে একজন আহত হয়েছেন।” প্রশাসনের কাছে তাঁদের বাড়িঘরে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, যোগাযোগ করা হলে চাঁন মিয়া দাবি করেন, রাতে প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর টেঁটা ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। এতে তাঁদের পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পেছনে শহীদ মেম্বারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে শহীদ মেম্বার এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভোররাতে চাঁন মিয়ার লোকজন আগে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর পক্ষের নারীসহ প্রায় ১৪-১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।