গ্রামীণ এলাকার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করতে তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষক দলকে সব ধরনের সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাদের অধীনস্থ সকল দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের ১১ আগস্টের একটি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১২ অক্টোবর মাউশিকে এই বিষয়ে একটি চিঠি প্রদান করে। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মাউশি মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠিয়েছে।

মাউশির পাঠানো ওই চিঠিতে মাঠপর্যায়ের পরিচালক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সরকারি বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা গবেষক দলকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেন এবং সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য যে, বিদ্যুৎ বিভাগের ১১ আগস্টের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সার্ক এনার্জি সেন্টারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ফর রিনিউয়েবল এনার্জি সার্ভিস লিমিটেড (সিআরইএসএল) বাংলাদেশের গ্রামীণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করবে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করা।

ওই চিঠিতে আরও জানানো হয়, গবেষণার অংশ হিসেবে একটি বিশেষ দল নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিদর্শন করবে। পরিদর্শনের সময় তারা তথ্য সংগ্রহ, জরিপ পরিচালনা এবং অবকাঠামোগত পর্যালোচনার কাজ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সহায়তা কামনা করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মাউশির কাছে পাঠায়। সেখানে গবেষণার স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষক দলকে পূর্ণ সহযোগিতা করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই চিঠিপত্রগুলোর মাধ্যমে গ্রামীণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা কতটুকু, তা যাচাই এবং এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মাত্র।