ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আগামী দিনের নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারণের চেষ্টা করেছে প্রশাসন। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঠাকুরগাঁওয়ের ভোট আগামীর নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন সামনে এনেছে।’

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকে শুরু করে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে যেসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তার একটিরও সুরাহা করা হয়নি।’

নির্বাচন প্রক্রিয়ার অনিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।’

পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন জামায়াত নেতা। তিনি দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটারদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল সকাল ৮টায় এবং তা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনে উপনির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।