ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রে জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “আমাদের ধারণা, অফিসিয়াল ব্যাজ ছাড়া পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসাররা সবাই বিএনপির দলীয় লোক। তাদের ইচ্ছামতো যাতে সিল মারতে পারে। ভোট গ্রহণে তারা জোর করে মেকানিজম করে ভোট গ্রহণ কর্তৃপক্ষকে কৌশলে কাজে লাগিয়ে ফলাফল নিজেদের অনুকূলে আনতে চেষ্টা করছেন, ফলে এগুলো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মধ্যে পড়ে।”
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও কৌশলী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অনেক পার্সট টুলস, মেশিন-মেকানিজম থাকে। এটাকেও ইঞ্জিনিয়ারিং বলা যায়।”
ভোটগ্রহণের নিয়মাবলির গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানতে চান, কেন অনেক ক্ষেত্রে ব্যালট পেপারে আগে থেকেই স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং কেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে আগে সিল মারা হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মিডিয়াতে আসছে, একজন মা ভোট দিতে গিয়ে বলছেন, তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। কে তার ভোটটা দিয়েছে? মিডিয়ায় আসছে বলে আমরা জানলাম, সব তো আমরা জানতে পারছি না।”
নির্বাচন এলাকার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ও নজরদারির অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই আসনে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে গাড়ি বা গণমাধ্যম পৌঁছাতে পারে না। সেই সুযোগে সেখানে কী কী ‘অঘটন’ ঘটছে, তা সঠিকভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর মতে, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই সম্ভবত পরিচয়পত্র বা ব্যাচ-ছবি ছাড়াই প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানালে তারা বলেন, আমরা দেখছি। আমরা জানাচ্ছি। ইয়েস নো ভেরি গুড, এমন আর কি!”
তবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে মনে করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, যেহেতু ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, তাই ফলাফল আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে। আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যারা দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করেন, তারাই প্রকৃত নির্বাচন পরিচালনা করতে পারেন। তবে যারা অন্ধের মতো দলীয় স্বার্থে কাজ করেন, তাদের মাধ্যমে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।