কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে একটি নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। এই চক্রটি ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পরীক্ষা গ্রহণ এবং নিয়োগ আদেশ জারির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. আবদুস সালাম (৪৪)। তিনি একটি দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রংপুর মহানগরীর আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

এসআরবি-১৩-এর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আবদুস সালামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই চক্রটি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল ওয়েবসাইটের হুবহু নকল করে একটি সাইট তৈরি করে। সেখানে বিভিন্ন পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যা দেখে অনেক প্রার্থী আবেদন করেন। এরপর প্রতারক চক্রটি রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রায় ১০০ জন প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেয় এবং পরবর্তীতে রাজশাহীতে তাঁদের মৌখিক পরীক্ষাও আয়োজন করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর চক্রটি বিভিন্ন পদে ৪২ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়ার একটি ভুয়া অফিস আদেশ প্রকাশ করে। এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে ভুয়া ওয়েবসাইটটি বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অন্যদিকে, এই প্রতারণার শিকার হয়ে মো. ফরহাদুল ইসলাম মণ্ডল (২৯) নামের এক চাকরিপ্রার্থী গত ২৭ অক্টোবর পীরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আবদুস সালামকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল।

এসআরবি-১৩ আরও জানিয়েছে, কেবল নিয়োগ বাণিজ্যই নয়, আবদুস সালামের বিরুদ্ধে বিমার নামে বিভিন্ন নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং টিউবওয়েল স্থাপনের কথা বলে একাধিক পরিবারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চাকরিপ্রার্থীদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের ফাঁকা পাতা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত নানা কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৩।

এই পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রাশেদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের আদলে একটি ওয়েবসাইট খুলে একটি প্রতারক চক্র নিয়োগ–বাণিজ্যের চেষ্টা করেছিল। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। আজ একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।”