কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ক্লোন করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি আব্দুস সালামকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোররাতে রংপুর মহানগরীর আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকায় অবস্থিত একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সালাম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় মাজিদপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র। এসআরবি-১৩ সূত্রে জানা গেছে, তিনি অতীতে একটি মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার এসআরবি-১৩-এর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল ওয়েবসাইটের আদলে একটি ক্লোন ওয়েবসাইট তৈরি করে। সেখানে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তির প্রলোভনে পড়ে অনেক চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। পরবর্তীতে রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে প্রায় ১০০ জন প্রার্থীকে নিয়ে একটি ভুয়া নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এরপর রাজশাহীতে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।
প্রতারণার এই প্রক্রিয়া আরও সামনে আসে যখন ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিভিন্ন পদে ৪২ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে একটি ভুয়া অফিস আদেশ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি দেওয়ার এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চক্রটি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
বিষয়টি যখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে, তখন তারা ক্লোন করা ওয়েবসাইটটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেন এবং কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এই প্রতারণার শিকার হয়ে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পালুনাশাহাপুর গ্রামের ফরহাদুল ইসলাম মন্ডল (২৯) গত ২৭ অক্টোবর পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় আব্দুস সালামকে প্রধান আসামি করা হয়।
এসআরবি-১৩ আরও জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন আইডিয়াল মোড়ের শান্তিধারা এলাকার একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, চাকরিপ্রার্থীদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের ফাঁকা পাতা এবং চাকরিসংক্রান্ত নানা কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে আগেও প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একটি মাদ্রাসার সুপার থাকাকালীন বিভিন্ন নারীর কাছ থেকে বীমার নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল স্থাপনের কথা বলে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
রংপুর এসআরবি-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী মুক্তকণ্ঠকে জানান, “এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি ও জব্দ করা আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”