সকাল হলেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। ইতোমধ্যে তালিকা অনুযায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচনি সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই শূন্য আসনের উপনির্বাচনে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর থেকে কড়া নিরাপত্তায় এসব সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। মোট ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন পাঁচজন প্রার্থী। নির্বাচন ঘিরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে।
প্রার্থীদের তালিকায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩।
এসআরবি-১৩, রংপুরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি-১৩ দায়িত্ব পালন করবে।”
তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১১৫টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ৭০টি কেন্দ্র মধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন ২৮ অক্টোবর থেকে ভোটের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এসআরবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এই বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় ছয়টি মোবাইল টহল দল এবং দুটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টহল দল মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে। এসব দল নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্তকরণ এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও নির্ধারিত এলাকায় সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করতে কাজ করবে। বিস্ফোরক-সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলায় একটি বোমা ডিসপোজাল ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত তথ্য সংগ্রহের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে। দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে টহল সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি অপারেশনস কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের টহল দলের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম বলেন, “ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতা প্রতিরোধে এসআরবি-১৩ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।”
এসআরবি-১৩-এর অধিনায়ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, “নির্বাচনে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করবে।” নির্বাচনের ফলাফল যে পক্ষেরই হোক, সবাই তা মেনে নেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন পুলিশ সুপার।
বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া জানান, নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোটাররা যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের ভোটগ্রহণের জন্য ১৮৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এখন ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।