বিমানের টিকিটে ১৫ শতাংশ এবং ক্রুজ ভ্রমণে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়ের সুযোগ মিলছে পর্যটন মেলায়। পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠান হোটেল বুকিংয়ে এক রাতের মূল্যে তিন রাত থাকার আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে। এছাড়া ভিসা প্রক্রিয়াকরণের খরচে দেওয়া হচ্ছে ৫০ শতাংশ ছাড়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এ এই ধরনের নানাবিধ অফার নিয়ে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা, হোটেল, ট্যুর অপারেটর এবং ভ্রমণসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এই পর্যটন মেলার যাত্রা শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।

মেলায় নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিটে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় নির্বাহী সামসি তাজরিফ জানান, আন্তর্জাতিক গন্তব্যের টিকিটে ১২ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের টিকিটে ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মোট ১৯টি গন্তব্যের টিকিটে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক গন্তব্য ১৪টি এবং অভ্যন্তরীণ গন্তব্য পাঁচটি। সামসি তাজরিফ বলেন, “কক্সবাজার, ব্যাংকক ও কুয়ালালামপুরের মতো গন্তব্যে টিকিটের চাহিদা বেশি।”

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসও মেলায় ১৭টি গন্তব্যের টিকিটে ১৫ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মহসিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সুন্দরবন ভ্রমণের ক্রুজ টিকিটেও ছাড় দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মেলা উপলক্ষে ‘ওয়েভ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনগামী ক্রুজ ভ্রমণে ১৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী রুমন মিয়া জানান, খুলনার জেলখানা ঘাট থেকে এই ক্রুজ ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। দুই রাত ও তিন দিনের প্যাকেজের মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, সি পার্ল হোটেল বুকিং ও ক্রুজ ভ্রমণে বিশেষ অফার প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী মাকসুদুর রহমান জানান, হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা এবং ক্রুজ ভ্রমণে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে। সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য ১২ থেকে ১৯ হাজার টাকার বিভিন্ন প্যাকেজও তাদের তালিকায় রয়েছে।

ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান ট্রিপ সাইলো মেলায় ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ৫০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি নিলুফা নিপা বলেন, “বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ প্যাকেজ নিয়ে তাঁরা মেলায় অংশ নিয়েছেন।” নিলুফা নিপা আরও বলেন, “সড়কপথে ভুটান ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিমানপথের তুলনায় বাসে যাতায়াতের খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম হতে পারে।” প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুটান ভ্রমণে ছয় রাত ও পাঁচ দিনের প্যাকেজের মূল্য ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, যেখানে সকালের ও রাতের খাবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পর্যটন মেলায় অবকাশযাপনের পাশাপাশি বিদেশে চিকিৎসাসেবা সম্পর্কেও তথ্য দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। চীনের মডার্ন ক্যানসার হাসপাতাল গুয়াংজুর প্রতিনিধি মো. আকাশ বলেন, বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিতে যান। তাঁর দাবি, “প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ জন বাংলাদেশি রোগী ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।” মো. আকাশ আরও বলেন, “রোগের ধরন ও চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর খরচ নির্ভর করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।” যাতায়াতের বিমানভাড়া আসা-যাওয়া মিলিয়ে ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা হতে পারে বলেও জানান তিনি। ভারতের চেয়ে খরচ কিছুটা বেশি হলেও সেবার মান সিঙ্গাপুরের মতো বলে জানান মো. আকাশ।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে এবারের মেলার প্রতিপাদ্য হলো ‘এআইনির্ভর পর্যটন, টেকসই গন্তব্য’। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০টি দেশের পর্যটন প্রতিনিধি ও সংস্থা এতে অংশ নিচ্ছে। মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল সাজানো হয়েছে।

পর্যটন খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন ভ্রমণ গন্তব্যের প্রচার এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী। আয়োজকদের মতে, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতের সামগ্রিক বিকাশে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।