বয়সের ভারে শরীর ন্যুব্জ, চলাফেরার জন্য লাঠির ওপর নির্ভরতা কিংবা স্বজনের কাঁধের ভর—শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনোটিই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তাদের সামনে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে হাজির হন ৯৮ বছর বয়সী মো. জসিম উদ্দিন এবং ৮৯ বছর বয়সী অমেলা বেওয়া। শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্য উপেক্ষা করে তাদের এই ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ অন্য ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলার ভুল্লী উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তাদের দেখা যায়। বয়সের কারণে চলাচলে অক্ষম জসিম উদ্দিনকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে সহায়তা করেন একজন কর্তব্যরত আনসার সদস্য।

অন্যদিকে, অমেলা বেওয়া তার ভাগ্নে আব্দুল রশিদের কাঁধে ভর দিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান। বার্ধক্যের কারণে কথা বলতেও তাদের যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছিল, যার ফলে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এই বয়সেও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তারা প্রমাণ করেছেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের প্রতি তাদের আগ্রহ কতটা প্রবল।

কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, দিনের শুরুর দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও সময়ের সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটাররা ধীরলয়ে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। তিনি আরও জানান, এই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৬ জন।

পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য মোট ২৮৭ জন নিবন্ধন করেছেন, যাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।