ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মাঝেই ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি দলের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং ওই কর্মকর্তাদের পরিবর্তে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রত্যাহার করা কর্মকর্তাদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং একজন ব্যাংক কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন— ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জুলফিকার আলী, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন, সালন্দর পাঁচপীর ডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম, সিংগিয়া মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দৌলতপুর সোলেমান খান বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান, বালাপাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলাম এবং বড়গ্রাম আলিম মাদ্রাসার সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের এই প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই জায়গাগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
আগামীকাল ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটগ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তে কর্মকর্তাদের এই প্রত্যাহার এবং নতুন নিয়োগের ঘটনাটি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন ও স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।