নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে নিজের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর এবং মারধরের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্যা নামে এক ব্যক্তি। তার দাবি, বাড়ির দখল নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাকে এবং তার বৃদ্ধ মাকে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করতে পারছেন না। এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে তিনি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা এসব অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা নোয়াখালী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি জানান, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা একটি ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন তিনি। বাড়িটির নাম দেওয়া হয়েছিল 'আজিজ টাওয়ার'।

লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে কাজী আজিজ অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তার বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি ক্রয় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে তিনি আরও দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আজিজের ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা চালান। এই অন্যায় প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কাজী আজিজ বলেন, “২০২৩ সালের ১৩ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুর নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।” তিনি জানান, ওই সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। এরপর বাড়িটির একতলা ইউনিটটি দখল করে নেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। সেই সুযোগে তিনি পুনরায় বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তার স্ত্রী, ছেলেরা এবং বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও বাড়িটিতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। ওই সময়ে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় বাড়িটি দখল করা হয়।

কাজী আজিজের দাবি, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি নিজের বাড়িতে ঢুকতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে তিনি চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

নিজের বসতবাড়ি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের এই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কাজী আজিজ উল্যা।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আবদুল মতিন চৌধুরী বলেন, “কাজী আজিজ উল্যার অভিযোগ সঠিক নয়।” তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমিতে তার বৈধ মালিকানা রয়েছে। তিনি জানান, তিনি কাজী আজিজ উল্যার বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি দলিলমূলে কিনেছেন। জমি কেনার পর থেকেই ওই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। জমি কেনার বিষয়টি এড়িয়ে তার বিরুদ্ধে বাড়ি দখল ও হামলার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।