দীর্ঘদিন ধরে বাস্তব জগতের সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। এই অগ্রগতির সাথে সাথে আমাদের সামনে পরিচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে এআর, ভিআর, এমআর এবং এক্সআরের মতো কিছু বিশেষ শব্দ। বর্তমানে গুগল গ্লাস, মাইক্রোসফটের হলোলেন্স, মেটার কোয়েস্ট সিরিজ এবং অ্যাপলের ভিশন প্রোর মতো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এই প্রযুক্তিগুলোর বিভিন্ন দিক ও কার্যকারিতা সাধারণ মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
এআর: অগমেন্টেড রিয়েলিটি বা এআর হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে বাস্তব পরিবেশের ওপর ডিজিটাল ছবি, লেখা, গ্রাফিকস কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করা সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, ব্যবহারকারী একই সাথে বাস্তব জগৎ দেখতে পান এবং সেই পরিবেশ সম্পর্কিত বাড়তি ডিজিটাল তথ্যও লাভ করেন। এআরের ব্যবহার শুধুমাত্র দামি হেডসেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে বাস্তব পরিবেশের সাথে ডিজিটাল উপাদান যুক্ত করার মাধ্যমেও এই প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়া যায়। আইকিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এ ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে।
ভিআর: ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি বা ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটারে তৈরি একটি কৃত্রিম পরিবেশের ভেতরে নিয়ে যায়। বিশেষ ধরনের হেডসেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর চোখের সামনে ত্রিমাত্রিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীর মনে হয় যে, তিনি বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সম্পূর্ণভাবে ওই ডিজিটাল পরিবেশের মধ্যেই অবস্থান করছেন। মেটার কোয়েস্ট সিরিজ, এইচটিসির ভিভ এবং সনির প্লেস্টেশন হলো ভিআর প্রযুক্তির অত্যন্ত পরিচিত কিছু উদাহরণ।
এমআর: মিক্সড রিয়েলিটি বা এমআর প্রযুক্তিতে বাস্তব পরিবেশ এবং ডিজিটাল বস্তুর এমন এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়, যার ফলে ব্যবহারকারী ডিজিটাল উপাদানগুলোর সাথে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া বা ইন্টারঅ্যাকশন করতে পারেন।
এক্সআর: এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি বা এক্সআর কোনো নির্দিষ্ট একক প্রযুক্তি নয়। বরং এআর, ভিআর এবং এমআরের মতো বাস্তব ও ভার্চ্যুয়াল পরিবেশের অভিজ্ঞতা তৈরির সব ধরনের প্রযুক্তিকে একত্রে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
সূত্র: অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ