গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে ১৪ মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির বাবা তাকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামের রুহুলের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুর রহমান হাবিব এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার দিনব্যাপী পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, শিশুটির বাবা ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে তার ১৪ মাস বয়সী মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুটির মা এবং অভিযুক্ত বাবা উভয়েরই স্থায়ী ঠিকানা সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। যেহেতু ঘটনাটি ওই এলাকার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশই এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে এবং শিশুটি বিক্রির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। উদ্ধার করার পর বুধবার রাতেই শিশুটিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ঝিনিয়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আজাহার আলীর (৩৮) সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তানের জন্ম হয়। তবে সংসার চলাকালীন তার স্বামী জুয়ায় আসক্ত হয়ে অর্থ অপচয় করতেন এবং স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। দীর্ঘদিনের এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং পরবর্তীতে স্বামীকে তালাক দেন বলে জানান ওই নারী। তালাকের পরও সাবেক স্বামী মোবাইল ফোনে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ওই নারী আরও জানান, তিনি যখন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন, তখন গত ১ অক্টোবর তার সাবেক স্বামী তার বাবার বাড়ি থেকে ছেলে ও ছোট মেয়েকে দুই-তিন দিনের জন্য নিজের বাড়িতে রাখার কথা বলে নিয়ে যান। কিন্তু এরপর আর সন্তানদের ফেরত দেওয়া হয়নি। সন্তানদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে স্বামী টালবাহানা শুরু করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি সন্তানদের উদ্ধারের জন্য সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একপর্যায়ে ১৪ মাস বয়সী শিশুকন্যাটির অবস্থান শনাক্ত হলে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি একেএম হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিক্রির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত করবে। তবে এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।