গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ভাই ও বোনের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে চরম বিরোধের কারণে এক বাবার মরদেহ দাফন করতে সাত ঘণ্টা সময় লেগেছে। আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বকশীগঞ্জ গ্রামে শেষ পর্যন্ত দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিদহ বকশীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭০) গতকাল রোববার দুপুরে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দুই সন্তান হলেন ইদ্রিস আলী ও হালিমা বেগম।
জানা যায়, আজ সকাল ১০টার দিকে জানাজা ও দাফনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগেই সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান হালিমা বেগম। এই বিরোধ মেটাতে স্থানীয় পর্যায়ে একটি সালিসের আয়োজন করা হয়। উক্ত সালিসে হালিমা বেগমকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বিকেল পাঁচটার দিকে দাফনকাজ সম্পন্ন হয়।
ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। তিনি মুঠোফোনে বলেন, “ভাই ও বোনের বিরোধ মীমাংসার পর আজ বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁদের বাবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।”
হালিমা বেগম মুক্তকণ্ঠকে অভিযোগ করে বলেন, “বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। পৈতৃক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য অংশ থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তাই সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাবার দাফনে সম্মতি দেননি।”
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইদ্রিস আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সাদুল্লাপুর থানার অধীন ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, “আজ বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গ্রামের লোকজন ভাইবোনের মধ্যে সমঝোতা করে দিয়েছেন। বিকেল পাঁচটার দিকে লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়।”