সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ধামাইল গানের প্রবর্তক ও বৈষ্ণবকবি রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবস উদযাপনের কর্মসূচি স্থানীয় কবরস্থানের পাশে আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ‘কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন’ নামক একটি সংগঠনের সদস্যরা। গত সোমবার তারা এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
আবেদনকারী সংগঠনের সদস্যরা তাদের চিঠিতে গান-বাজনার চর্চাকে ‘অনৈসলামিক’ হিসেবে অভিহিত করে উক্ত কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে বৈষ্ণবকবি রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল সংলগ্ন এলাকায় কোনো ধরনের গানবাজনা যেন না হয়, সেই দাবিটি আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থলটি অবস্থিত। এর আগে এই গ্রামের বাজারের পাশে খোলা মাঠে তাঁর প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
তবে এই আবেদনের সাথে প্রয়াণদিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দীন। আজ বুধবার রাত আটটায় মুঠোফোনে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিবছর ৯ ও ১০ নভেম্বর রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান হয়। গত বছরও সেটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটিও আছে। এবার এ বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য ১ নভেম্বর সভা আহ্বান করা হয়েছে। এখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সব ধর্ম ও মতের মানুষ থাকবেন।”
ইউএনও আরও জানান, আবেদনকারীরা মূলত এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন যে, রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল এলাকায় একটি কবরস্থান রয়েছে এবং সেখানে যেন কোনো অনুষ্ঠান না করা হয়।
আবেদনপত্রে লেখা হয়েছে, “কেশবপুর বাজার–সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় মরমি সাধক রাধারমণ দত্তের নাম ব্যবহার করে গানবাজনাসংশ্লিষ্ট ‘অনৈসলামিক’ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। জনস্বার্থে এ কার্যক্রম বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
এই চিঠিতে কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদির, রফিক মিয়া, মো. তৈমুর আলী, আনকার, খালেদ, সোহেল, মো. রফিকুল, জাহাঙ্গীর, আবু মিয়া, মো. রফিক আলী, দিলা মিয়া, ওয়াহিদ, ইকবাল, আবু তাহের, আওলাদ ও তারেক মিয়াসহ মোট ২৩ জন স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, ‘কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন’ সংগঠনটি মাস তিনেক আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নন।
গ্রামের এক বাসিন্দা নিশ্চিত করেছেন যে, রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থলের পাশে কবরস্থান রয়েছে। তবে তিনি জানান, আগেও সেখানে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সেখানে আর কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।
আবেদনকারীদের একজন আবদুল কাদির মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বাজারের পাশে যেখানে অনুষ্ঠান হয়, সেখানে কবরস্থান ও এক মসজিদ রয়েছে। আমরা শুনছি, এবারও অনুষ্ঠান হবে, তাই এই স্থানে যেন না হয় এ জন্য আমরা আবেদন করেছি।”