পূর্ববিরোধের জেরে সুনামগঞ্জে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর এবং জোরপূর্বক মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর নাম সোনা মিয়া ওরফে সোনাই পাগলা (৫০)।

গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার কিছু মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সোনা মিয়া জেলার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযুক্ত মো. মাখন মিয়া রানীগঞ্জ এলাকার বাগময়না গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে পার্লারের ব্যবসা করেন এবং বাজারের ইজিবাইক স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার স্থান হিসেবে পরিচিত খাতুন কমপ্লেক্সটি তার ফুফাতো ভাই শাহ গোলাপ মিয়ার।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাখন মিয়া কাঁচি দিয়ে সোনা মিয়ার মেহেদি রঙ করা লম্বা চুল কেটে দিচ্ছেন। সোনা মিয়া সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে ধরে রাখা হয় এবং লাথি মারা হয়। ভিডিওতে সোনা মিয়াকে বলতে শোনা যায়, "মাখন ভাই, দয়া করেন... আমারে ছাইড়া দেইন।"

একপর্যায়ে সোনা মিয়া বলেন, "এক বছর আগের ঘটনাতো শেষ অইছে ওই সময়।"

ঘটনার পর ছেঁড়া গেঞ্জি দেখিয়ে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা দেখইন, আমিতো কইরাম দেইক্কা দিমু, একদিন ইতা শক্তি আমিও খাটাইমু যা। এক বছর আগে তার সাথে একটা ঘটনা করছিলাম।"

চুল কাটা শেষ হলে ক্ষুব্ধ সোনা মিয়া বলেন, "আমার বাড়ি দিরাই, এর হিসাব পাইবে তুই।"

পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে সোনা মিয়া দাবি করেন, "রানীগঞ্জের মাখন গুন্ডা আমার চুল কাইট্টা দিছে।"

তিনি আরও জানান, এক বছর আগে দিরাইয়ে মাখনের সঙ্গে একটি বিষয় হয়েছিল যা মুরব্বিরা মিটিয়ে দিয়েছিলেন। রানীগঞ্জ বাজারে টমটম থেকে নেমে চা খাওয়ার সময় মাখন তাকে আক্রমণ করে চুল কেটে দেন।

অন্যদিকে, ঘটনার দায় স্বীকার করে মাখন মিয়া জানান, সোনা মিয়ার সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসে সোনা মিয়া তাকে দিরাইয়ে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যান। সেখানে সোনা মিয়া ও আরও ৫-৭ জন তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে নির্যাতন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাখন মিয়া বলেন, "ঘটনাটি আমার মনে খুব কষ্ট দিয়েছে। বহুদিন পর আজ তাকে পেয়েছিলাম। তবে তার সঙ্গে যে আচরণ করেছি, সেটা ঠিক হয়নি। রাগের মাথায় এসব করেছি। রাগ কমার পর বুঝতে পেরেছি, তাকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে আমি অপরাধ করেছি। আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখন সে যদি আইনগত ব্যবস্থা নেয়, নেবে।"

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এমন কোনো ঘটনা এখন পর্যন্ত তাদের নজরে আসেনি। থানায় কোনো অভিযোগও জমা পড়েনি। তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।