যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে গম আমদানির লক্ষ্যে দুটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। এখন সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর-কষাকষির প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

আজ বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয় বলে বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যঘাটতি কমিয়ে আনতে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ গম আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারক সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর সাত লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে দরপ্রস্তাব নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল এবং লুই ড্রেফাস কোম্পানি।

উল্লেখ্য, এতদিন কেবল অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমেই পাঁচ বছর মেয়াদি জিটুজির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের গম আমদানি করা হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি লুই ড্রেফাস কোম্পানিকেও এই প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গম সরবরাহের জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক থেকে বেড়ে এখন দুটি হয়েছে। এই গম কেনার প্রয়োজনীয় অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রদান করা হবে।

তবে আমদানিকৃত গমের মূল্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জিটুজি পদ্ধতিতে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনার মূল্য প্রতি টন ৩২২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। অথচ একই সময়ে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় অন্য দেশ থেকে ৫০ হাজার টন গম কেনা হয়, যার প্রতি টনের দাম ছিল ২৯৭ দশমিক ৯২ ডলার। অর্থাৎ জিটুজি এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মধ্যে প্রতি টনে দামের পার্থক্য প্রায় ২৪ ডলার। এই মূল্য ব্যবধানের কারণে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনায় সম্ভাব্য বাড়তি ব্যয় প্রায় ৫৩ লাখ ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহের মৌসুমে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও বস্তাবন্দি করার জন্য নতুন এক কোটি পাটের বস্তা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই খাতে মোট ব্যয় হবে ৬৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যেখানে প্রতিটি বস্তার গড় মূল্য ধরা হয়েছে ৬৩ টাকা ৪২ পয়সা। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে।

একই বৈঠকে কানাডা ও রাশিয়া থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এই সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৭০৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯০ টাকা, যা কৃষি ভর্তুকি খাতের বাজেট থেকে মেটানো হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন করে দুই চালানে মোট ৮০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন করে দুই চালানে মোট ৭০ হাজার টন সার আমদানি করা হবে। উভয় দেশ থেকেই প্রতি টন সারের দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার হিসেবে কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতারের প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে অতিরিক্ত এক জাহাজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাবের বিষয়েও ক্রয় কমিটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।