বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। তাঁদের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি শেয়ার বাজার এবং সঞ্চয়পত্রসহ যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে আজ বুধবার দেশের সকল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে বিএফআইইউ।
বিএফআইইউ কর্তৃক প্রেরিত ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির হিসাব খোলার আবেদন ফরম এবং লেনদেনের বিবরণীসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য চিঠি পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিতে হবে। মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় এই তথ্যের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে অপেশাদার আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিশেষ ঘটনা বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, যেদিন নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দিন মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মদ এবং নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা জোরপূর্বক কিছু আদেশে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। এই গুরুতর ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগটি ছিল তদবির সংক্রান্ত। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যেন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, সেই উদ্দেশ্যে তিনি একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির করেন। এই তদবিরের ক্ষেত্রে তিনি বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএফআইইউ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।