রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর হামলার ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তিন সদস্যের এই বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করেছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) আরিফ আহমদকে এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান। এছাড়া সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-৩) ইমতিয়াজ হোসেন।
প্রশাসনিক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনে কমিটি চাইলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে পারবে।
ঘটনাটি ঘটে আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে, যখন আইইডিসিআরের পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে মারধর করা হয়। অধ্যাপক কাজী আহমেদের অভিযোগ, ড্যাবের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে এই হামলাটি ঘটিয়েছেন।
এই মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজ মুক্তকণ্ঠের হাতে এসেছে। উক্ত ভিডিওতে দেখা যায়, অধ্যাপক কাজী আহমেদ তাঁর নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আট থেকে নয়জন ব্যক্তি হঠাৎ করে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পৃথক সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।
ড্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, “আইইডিসিআরের পরিচালকের কক্ষে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।” একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাবের সভাপতি ও মহাসচিবের কাছে যথাযথ জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।