প্রতারণার গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কলকাতার সল্টলেক দপ্তরে তলব করা হয়েছিল সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি যখন দপ্তর থেকে বেরিয়ে আসেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ বুধবার দুপুরে ইডির পক্ষ থেকে পাঠানো সমন পেয়ে সল্টলেকের দপ্তরে উপস্থিত হন ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে ইডি কর্মকর্তারা তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শেষ করে তিনি দপ্তর থেকে বের হয়ে আসার পরপরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। যদিও কোন নির্দিষ্ট মামলায় এবং ঠিক কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত 'মাস আর্ট' নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কলকাতার দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রির নামে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি বিশেষ ও উল্লেখযোগ্য দুর্গাপূজা দেখার বিশেষ সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে 'প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস' বিক্রি করত মাস আর্ট। প্রতিটি পাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার রুপি। অভিযোগ রয়েছে যে, ইউনেসকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করে এবং ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও লোগো ব্যবহার করে এই পাসগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ইউনেসকোর কোনো আনুষ্ঠানিক অংশীদার নন। তা সত্ত্বেও নিজেদের ইউনেসকোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে পাস বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, ২০২২ সালে ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে মোট ৬১ হাজার ডোনার পাস বিক্রি করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ পাস বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। তবে পাস বিক্রির প্রকৃত সংখ্যা, সংগৃহীত অর্থের সঠিক পরিমাণ এবং সেই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে এই ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ইন্দ্রনীল সেনের কসবা এলাকার বাসভবন, হুগলিতে অবস্থিত তাঁর খামারবাড়ি এবং তাঁর ১৫ জন আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইডি।

সূত্রমতে, গ্রেপ্তারি এড়াতে ইন্দ্রনীল সেন প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে আদালত তাঁকে কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা প্রদান করেননি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইউনেস্কো কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে কলকাতার দুর্গাপূজা আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। অভিযোগ উঠেছে যে, এই আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে পুঁজি করেই ডোনার পাস বিক্রিতে বড় ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে।