কলকাতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তাঁর দল। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি যখন তাঁর বাসভবন থেকে বের হচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে এক নারী তাঁর ওপর এই হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ এই ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো হামলা বা ধারালো অস্ত্রের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওই নারীকে আটক করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক দোলা সেন। তাঁর করা অভিযোগে অভিযুক্ত নারীর নাম তন্নিষ্ঠা সাহা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দোলা সেন জানান, তন্নিষ্ঠা একজন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং তিনি নিজেকে মমতার ভাগনি বলে দাবি করেছেন। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছয়টায় মমতা কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হলে তন্নিষ্ঠা তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করেন।
উল্লেখ্য, সিভিক ভলান্টিয়াররা মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী, যাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ নিয়োগ করে থাকে। তাঁরা সাধারণত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ভিড় সামলানো এবং জননিরাপত্তার কাজে পুলিশকে সহায়তা করে থাকেন।
তৃণমূলের মমতা-অংশের দাবি, অভিযুক্ত ওই নারী মাদকাসক্ত। একই সঙ্গে দলটি প্রশ্ন তুলেছে যে, জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া একজন ব্যক্তির বাড়ির এত কাছে কেউ কীভাবে পৌঁছে যেতে পারেন। এই ঘটনার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।
অভিযোগে দোলা সেন লিখেছেন, ‘তিনি গালিগালাজ করছিলেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে মারমুখী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় অষ্টম মুখ্যমন্ত্রীকে আঘাত করতে তিনি রাস্তায় শুয়েও পড়েন।’
দলের মুখপাত্র সাকেত গোখলে এই অভিযোগের একটি অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আজ একজন মাদকাসক্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করেছেন। বাংলার অবস্থা এমনই যে জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীও নিরাপদ নন। দিদি দিল্লিতে বিজেপিকে শেষ করে দিতে বদ্ধপরিকর বলেই কি এটা বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?’
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর নাম অনুসূয়া সাহা এবং বয়স ৩৮ বছর। পুলিশ পুরো ঘটনাটিকে কেবল একটি ‘বাগবিতণ্ডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে যে তাঁকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে একটি ঘটনা ঘটে। অনুসূয়া সাহা নামের এক নারী তাঁর মুখোমুখি হন। এ নিয়ে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা হয়। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ওই নারীকে আটক করেন। এদিকে তৃণমূলের সদস্যরা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এর আগেও একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে টানা তিন মেয়াদের পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারায় তৃণমূল। এরপর রাজ্য ও জাতীয় উভয় পর্যায়েই দলটি ভাঙনের মুখে পড়ে। ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তৃণমূলের মমতা-অংশের নেতা-কর্মীরা বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন।
গত আগস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, কলকাতার শ্যামবাজার এলাকায় তাঁর গাড়িতে একটি বড় পাথর ছোড়া হয়েছিল। এর ফলে তাঁর বুকে ব্যথা হয়, যা বেশ কয়েক দিন স্থায়ী ছিল।
মে মাসে নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক দিন পর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ইট-পাথর ও ডিম ছোড়া হয়। উল্লেখ্য, ওই জেলাটি তাঁর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
গত শনিবার বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সরদারের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এই বিষয়ে বিভাস সরদার জানান, একদল লোক তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেয় এবং গাড়ির সামনের কাচে ইট ছোড়ে। তিনি জানান, তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন।