আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নিয়মভঙ্গের দায়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জরিমানা করা হয়েছে এফসি বার্সেলোনাকে। জরিমানার পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬০২ ইউরো, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ইউরো ১৩৮.২৫ টাকা) বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৩ হাজার টাকার কিছু বেশি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো আয় করা এই জায়ান্ট ক্লাবটি এই সামান্য অঙ্কের জরিমানার বিরুদ্ধেও আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্লাবের একটি সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, “রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবে।”

পুরো ঘটনার মূলে রয়েছে হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে দলবদলের চেষ্টা। সর্বশেষ দলবদল উইন্ডোতে বার্সেলোনা তাঁকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদের অভিযোগ ছিল, তাদের সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছাড়াই নিয়ম ভেঙে আলভারেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বার্সেলোনা। এই অভিযোগটি কেবল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)-এর কাছেই নয়, বরং ফিফার কাছেও পেশ করা হয়েছিল।

স্প্যানিশ ফেডারেশনের তদন্তে দেখা গেছে, আতলেতিকোর অভিযোগটি সঠিক ছিল। জানা গেছে, আতলেতিকো মাদ্রিদকে জানানোর আগেই আলভারেজের এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্সেলোনা। গত ১৫ মে বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকোর আলভারেজের তৎকালীন এজেন্ট ফার্নান্দো ইদালগোর সঙ্গে কথা বলেন। অথচ আতলেতিকোর সঙ্গে বার্সেলোনার প্রথম লিখিত যোগাযোগ হয় এর ১৩ দিন পর, অর্থাৎ ২৮ মে।

এতদসত্ত্বেও ফেডারেশন এই নিয়মভঙ্গকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করেনি। আরএফইএফের শৃঙ্খলাবিধির ১৩৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী এটিকে ‘লঘু বিধিভঙ্গ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যার ফলে জরিমানার পরিমাণ অত্যন্ত কম। যদি একই বিধির ৯৩ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হতো, তবে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারত, কারণ ওই ধারায় নিয়ম ‘জেনেশুনে ও বারবার’ লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। তবে বার্সেলোনা সম্ভবত নিজেদের এই দায় স্বীকার করতে রাজি নয়, তাই জরিমানার পরিমাণ যাই হোক না কেন, তারা আপিল করতে যাচ্ছে।

আলভারেজকে কেন্দ্র করে বার্সেলোনা ও আতলেতিকোর এই টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। রবার্ট লেভানডফস্কির বিকল্প হিসেবে নতুন স্ট্রাইকার খুঁজছিল বার্সেলোনা এবং সেই লক্ষ্যে তারা ১০ কোটি ইউরোর একটি প্রস্তাবও দিয়েছিল। দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই প্রস্তাব বহাল ছিল। তবে আতলেতিকোর প্রধান নির্বাহী মিগেল আঙ্গেল হিল মারিন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, লা লিগার প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে আলভারেজকে বিক্রি করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

আলভারেজ নিজেও একসময় দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের সময় ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “তাঁর মনে হয়, দলবদল হলে তা সবার জন্যই ভালো হবে।” পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, বার্সেলোনা ছিল তাঁর পছন্দের গন্তব্য, যা আতলেতিকো সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। মৌসুমের শুরুতে গ্যালারি থেকে তাঁকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী আলভারেজ আতলেতিকোর হয়ে শেষ দুই ম্যাচে গোল করেছেন। শনিবার দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে জয়সূচক গোল করার পর তিনি সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিশ্বকাপের সময় দলবদল নিয়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গে আলভারেজ বলেছেন, “কথাগুলো যেভাবে এবং যে সময়ে বলেছিলেন, সেটি ভুল ছিল।” সমর্থকেরা কেন ক্ষুব্ধ হয়ে ছিলেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন বলেও জানিয়েছেন।

আলভারেজকে নিয়ে এই বিতর্কের পর বার্সেলোনা ও আতলেতিকো এখনো মাঠে মুখোমুখি হয়নি। আগামী ৮ নভেম্বর মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে দুই দল লড়াই করবে। বর্তমানে লা লিগায় ১০ ম্যাচের আটটিতে জয়লাভ করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আতলেতিকো, আর শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা তাদের চেয়ে ২ পয়েন্ট এগিয়ে আছে।