আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে বার্সেলোনার। তবে এই ব্যর্থ প্রচেষ্টারই ফলস্বরূপ এখন আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে কাতালান জায়ান্টদের। আতলেটিকো মাদ্রিদের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) বার্সেলোনাকে ৬০২ ইউরো জরিমানা করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অংকের পরিমাণ প্রায় ৮৩ হাজার টাকা। যদিও ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী ক্লাবের জন্য এই জরিমানার পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্পেনের সংবাদমাধ্যম এএস এবং মুন্দো দেপোর্তিভো প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে। তারা জানায়, দলবদলের নির্ধারিত নিয়মাবলি লঙ্ঘনের অভিযোগে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেনের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও এই জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত গ্রীষ্মের দলবদল উইন্ডোতে। তখন আলভারেজকে দলে নেওয়ার জন্য তৎপরতা চালিয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আর্জেন্টাইন এই তারকার সঙ্গে যোগাযোগের আগে তার বর্তমান ক্লাব আতলেটিকো মাদ্রিদকে বার্সেলোনা লিখিতভাবে কোনো অবহিতি জানায়নি।
স্প্যানিশ ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পেশাদার ফুটবলার যদি অন্য কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকেন, তবে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে আগ্রহী ক্লাবটিকে অবশ্যই বর্তমান ক্লাবের কাছে লিখিত আবেদন করতে হয়। আতলেটিকোর দাবি, বার্সেলোনা এই বাধ্যতামূলক নিয়মটি যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।
উল্লেখ্য, আলভারেজের সঙ্গে আতলেটিকোর চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে থাকা এই খেলোয়াড়কে নিয়ে বার্সেলোনার গোপন তৎপরতায় ক্ষুব্ধ হয়ে আতলেটিকো মাদ্রিদ স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে।
তবে ফিফা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিষয়টি তাদের বিচারিক এখতিয়ারের আওতাভুক্ত নয়। ফলে ফিফা এই অভিযোগের ওপর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত শেষে ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৩৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী বার্সেলোনাকে জরিমানা করা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট ধারায় ফেডারেশনের নির্দেশনা, সিদ্ধান্ত কিংবা বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালনে তুলনামূলক লঘু অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই ধারার অধীনে সর্বোচ্চ ৬০২ ইউরো পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা করা সম্ভব, এবং বার্সেলোনাকে সেই সর্বোচ্চ অংকটিই জরিমানা করা হয়েছে।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৮৩ হাজার ২২৭ টাকা। দলবদলের বাজারে যেখানে কোটি কোটি ইউরো খরচ করে বার্সেলোনা, সেখানে এই অংকটি তাদের জন্য কোনো আর্থিক ধাক্কা নয়। তবে এই ঘটনাটি দুই ক্লাবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করল।
বার্সেলোনার জন্য এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালে ফরাসি তারকা আঁতোয়ান গ্রিজমানকে দলে নেওয়া নিয়েও আতলেটিকো মাদ্রিদ অভিযোগ জানিয়েছিল। সেবার তদন্তের পর কাতালান ক্লাবটিকে মাত্র ৩০০ ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল। সাত বছর পর আবারও প্রায় একই ধরনের বিতর্কে শাস্তির মুখে পড়ল বার্সেলোনা।
এদিকে আলভারেজকে কেন্দ্র করে দুই ক্লাবের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল গত গ্রীষ্মেই। ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তার সেই মন্তব্যের পর আতলেটিকোর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।
শেষ পর্যন্ত দলবদল না হওয়ায় আলভারেজ মাদ্রিদের ক্লাবটিতেই থেকে যান। তবে মৌসুমের শুরু থেকে তাকে সমর্থকদের তীব্র সমালোচনা ও দুয়ো শুনতে হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আতলেটিকোর হয়ে জয়সূচক গোল করেন আলভারেজ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করার পর তিনি সমর্থকদের কাছে তার আগের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
আলভারেজ বলেন, “এটা আমার ভুল ছিল। সমর্থকেরা কেন ক্ষুব্ধ, তা আমি বুঝতে পারছি। আমি নিজেও সমর্থক হলে একইভাবে ক্ষুব্ধ হতাম। বিশেষ করে এখানে আসার পর থেকে তারা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সেটি বিবেচনায় নিলে।”
ম্যাচ শেষে গোলের পর মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামের দর্শকদের একাংশ দাঁড়িয়ে আলভারেজকে অভিবাদন জানান। এতেই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এখন কিছুটা কাটতে শুরু করেছে।