ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না এবং এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব সরকারের কাছে পৌঁছেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আজ বুধবার সচিবালয়ে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাণিজ্যমন্ত্রী। উক্ত বৈঠকে বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজারে বোতলজাত এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। কোম্পানিগুলোর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।
বর্তমানে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারিত রয়েছে ২০৪ টাকা। কোম্পানিগুলো এই দাম বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করতে আগ্রহী। এছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করার আবেদন জানিয়েছে তারা।
রোজার পণ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা হচ্ছে
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া বা পাইপলাইনে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজানের আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।”
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, ঋণপত্র (এলসি) খোলায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কোনো আমদানিকারক এলসির মার্জিন কিংবা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিষয়ে আমদানিকারকদের সাথে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।