বাগেরহাট সদর উপজেলায় তিন দুর্বৃত্তের বর্বরোচিত হামলায় আহত হয়েছেন শেখ আল আমিন (৩৪) নামের বাংলালিংকের একজন কর্মী। তাকে কুপিয়ে আহত করার পর তার কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা এবং অফিসের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ এলাকার কাঠালতলা মোড়ে এই ছিনতাই ও হামলার ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত শেখ আল আমিন সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি পেশায় বাগেরহাটে বাংলালিংকের কর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন।

ঘটনাটি বর্ণনা করে স্থানীয় বাসিন্দা শেখ তানভীর জানান, হামলার কিছু সময় আগে আল আমিন তাকে ফোন করে জানান যে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আল আমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। তানভীরের দাবি, আল আমিনের সাথে থাকা অফিসের ব্যাগে প্রায় এক লাখ টাকা ছিল।

আল আমিনের সহকর্মী মো. মাছুম বিল্লাহ আহমেদ জানান, ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তে আল আমিনের সাথে তার কথা হয়েছিল। দ্রুত ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে আল আমিন সেখান থেকে বের হন। পরবর্তীতে ফোন করে আল আমিন তাকে জানান যে, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে টাকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী আল আমিন এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “নিয়মিত ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও আগে কখনো এমন ঘটনার মুখে পড়েনি। ঘটনার সময় একটি মোটরসাইকেল আমার পাশ দিয়ে সামনে গিয়ে পথ আটকে দাঁড়ায়। মোটরসাইকেলটিতে তিনজন ছিলেন। তাদের একজনের মাথায় হেলমেট ছিল। কাছে যেতেই তারা চায়নিজ কুড়াল দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে আমার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান তারা।”

তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি। তার ব্যাগে টাকা ও পণ্যসহ মোট প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল ছিল। তবে হামলার তীব্রতার কারণে পরবর্তী সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল, তা তিনি আর মনে করতে পারছেন না।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, বিকেলের দিকে আহত বাংলালিংক কর্মীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।