ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে ছিনতাইয়ের এক অদ্ভুত ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এক তরুণ ও এক তরুণী। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, তাঁরা পরস্পর প্রেমিক-প্রেমিকা এবং নিজেদের বিয়ের প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করার লক্ষ্যেই এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া এই যুগলের স্থায়ী ঠিকানা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর হায়দরাবাদের মালকাজগিরির বনস্থলিপুরম থানা এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন পুলিশ খবর পায় যে, ৬৫ বছর বয়সী এক মন্দিরকর্মীর প্রায় ৩০ গ্রাম ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনতাই করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধার দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, দুই তরুণ-তরুণী প্রথমে তাঁকে সাহায্য করার কথা বলে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপর হঠাৎ করেই তাঁরা তাঁর মুখ চেপে ধরেন এবং জোরপূর্বক গলার সোনার চেইনটি ছিনিয়ে নেন।
ঘটনাটি ঘটে ১৮ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪ মিনিটের দিকে ভেঙ্কটা রমনা কলোনির রাজা রাজেশ্বরী মন্দিরে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই সময় ভুক্তভোগী আন্দুগুলা রমুলাম্মা মন্দির পরিষ্কার করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। মন্দিরে অন্য কোনো ভক্ত বা মানুষের উপস্থিতি না থাকায় অভিযুক্ত যুগল তাঁকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন এবং আক্রমণ করেন।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তিন দিনের দীর্ঘ তল্লাশির পর গতকাল বুধবার সকালে বনস্থলিপুরমের কমলা নগরে একটি গয়নার দোকানের কাছ থেকে ওই যুগলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে; তাঁদের নাম ২৩ বছর বয়সী অন্নাপু রেড্ডি দুর্গা রমনা রেড্ডি এবং ২৪ বছর বয়সী তেঙ্কা বারালক্ষ্মী।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চাকরির খোঁজে প্রায় এক মাস আগে এই তরুণ-তরুণী হায়দরাবাদে এসেছিলেন। কিন্তু কোনো উপযুক্ত কাজ খুঁজে না পাওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নিজেদের পরিকল্পিত বিয়ের খরচ মেটানোর জন্য তাঁরা অপরাধের পথ বেছে নেন।
ছিনতাইয়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বারালক্ষ্মী ওই বৃদ্ধার মুখ চেপে ধরেছিলেন যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন, আর রমনা রেড্ডি তাঁর গলার সোনার চেইনটি জোর করে খুলে নেন। এরপর তাঁরা দ্রুত একটি স্কুটারে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই করা সেই সোনার চেইন এবং দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করতে পেরেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্নাপু রেড্ডি দুর্গা রমনা রেড্ডি ও তেঙ্কা বারালক্ষ্মী উভয়েই অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা এবং প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন। হায়দরাবাদে আসার পর তাঁরা গুররামগুডা এলাকায় একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। উল্লেখ্য, তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অপরাধমূলক মামলা নথিভুক্ত নেই।
পুলিশের কাছে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে তাঁরা বলেন, “তাঁরা বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কাজ পাচ্ছিলেন না। ফলে তাঁরা অর্থসংকটে পড়েন এবং অপরাধের পথ বেছে নেন।”
বর্তমানে এই যুগলকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।