দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে উচ্চশিক্ষাসহ সব স্তরেই কর্মমুখী, কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশ্বমানের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি। রাষ্ট্রপতির মতে, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে হবে।
আজ বুধবার বঙ্গভবনে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি তাঁর এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি বঙ্গভবনে যায়। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাফায়েত মোহাম্মদ, উপাচার্য ফরিদ আহমদ সোবহানী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হায়দার এবং বোর্ড সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের চৌধুরী।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন। প্রতিনিধিদল জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়টি জেসাপ আন্তর্জাতিক কোর্ট প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ রাউন্ডে ২০২৬ সালসহ মোট চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
আলোচনা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতিকে জানায় যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে তারা এ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাজ করতে হবে।
সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদল ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি উক্ত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাঁর আশ্বাস প্রদান করেন।