মুন্সীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গত সাত মাসে মোট ১১১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনাগুলোতে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৩০ জন। মূলত চালকদের বেপরোয়া ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় স্টিয়ারিং ধরে রাখাকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনা সভায় এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢল রোড শো বের করা হয়। এরপর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন পিপিএম, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন এবং মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবহন খাতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নিরাপদ সড়ক চাই-এর মুন্সীগঞ্জ শাখার সভাপতি ও সদস্যরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা কেবল একজন মানুষের প্রাণহানি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও জীবিকা। অনেক ক্ষেত্রে একজন মানুষের আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল থাকে। তাই দুর্ঘটনার কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহার এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা মত প্রকাশ করে বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি চালক, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারী সবার দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত প্রয়োজন।

বক্তারা বিশেষভাবে চালকদের জন্য নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তারা বলেন, ক্লান্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করার এবং নির্ধারিত বাস বে-তে গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ স্থানে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শেষে একটি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাননি এমন চারজন পেশাদার গাড়িচালককে পুরস্কৃত করা হয়।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক দপ্তরের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।