বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ ১০ ক্রেতার অন্যতম জাপানি প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লো-কে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু, প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র এবং টেকসই পোশাক উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বাস দিয়েছেন যে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইউনিক্লো-কে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় টোকিওতে ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক চলাকালীন বাংলাদেশের ওপর ইউনিক্লোর যে আস্থা রয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মজবুত ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।

আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা। বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু, কারিগরি বস্ত্র ও টেকসই পোশাক উৎপাদনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের গুণগত মান ও নতুনত্ব আনা, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।” তিনি আরও জানান, বিনিয়োগের জন্য জমির ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ছাড়পত্র পেতে প্রতিষ্ঠানটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আগ্রহ রয়েছে তাঁর সরকারের।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের গুরুত্বের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে এই চুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। অন্যদিকে জাপানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ফাস্ট রিটেইলিংয়ের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং গ্রুপের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োশিহিরো কুনি প্রমুখ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শীর্ষ ১০ ক্রেতার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ইউনিক্লো। গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তারা বাংলাদেশ থেকে মোট ৭১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। উল্লেখ্য, ওই অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শীর্ষ ক্রেতা ছিল এইচঅ্যান্ডএম, যারা ২৫৯ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।

জানা গেছে, ইউনিক্লোর মূল গ্রুপ হলো ফাস্ট রিটেইলিং। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইউনিক্লো ছাড়াও জিইউ, থিওরি এবং জে ব্র্যান্ডসহ মোট সাতটি ব্র্যান্ডের অধীনে তাদের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে উৎপাদিত পোশাক বিশ্বের ২৪টি দেশের বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রি করে ইউনিক্লো। গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ২৬টি পোশাক কারখানা তাদের পোশাক সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ৩২ শতাংশ সরবরাহ করেছে চট্টগ্রামের প্যাসিফিক জিনস গ্রুপ। এই কারখানাটি বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম।