কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভয়াবহ আগুন লেগে পাঁচ যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশপথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আগুনে দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিতারা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন (৮০), আয়েশা বেগম (৬০), ইয়াছমিন আক্তার (৩০), মো. আলম (৫০) ও শিশু মনিরা আক্তার (৫)। দুর্ঘটনার পরপরই তাঁদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে বিল্লাল হোসেন, আয়েশা বেগম ও ইয়াছমিন আক্তারের অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনাটি সম্পর্কে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. রাশেদ আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আগুনে দগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই তিনজনের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুসারে, বিতারা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মনিরা আক্তার বাড়িতে খেলার সময় ভুলবশত নাকে একটি ছোট কাঠি ঢুকিয়ে ফেলে। সেটি বের করার জন্য পরিবারের সদস্যরা রাতে তাঁকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ করে মনিরা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশাটি যখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশপথ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতায় অটোরিকশায় থাকা পাঁচ যাত্রী দগ্ধ হন। তবে অটোরিকশায় থাকা আরিয়া ও আরিফ নামের আরও দুই শিশু যাত্রী অলৌকিকভাবে অক্ষত থেকেছেন।
অটোরিকশায় আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম লাল দাস। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সেখানে গিয়ে দেখেন, অটোরিকশাচালকেরা আগুনে পুড়ে যাওয়া অটোরিকশাটি দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।”