কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মারুকা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অর্থ লুটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিরা হলেন মো. আলী আরশাদ (৭০), মো. হানিফ মিয়া (৫০), মো. জসীম উদ্দিন (৪৮), মো. শাহ পরান মিয়া (৪০) ও মো. সাকিব মিয়া (২২)। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তোফাজ্জল করাল নামের এক ব্যক্তি অটোরিকশা চালানোর আড়ালে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাকে মাদক বিক্রি ও সেবন থেকে বিরত থাকতে একাধিকবার বলা হলেও তিনি তা শোনেননি বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারুকা এলাকার চশই দাড়িবন এমবি দাখিল মাদ্রাসার সামনে অটোরিকশায় করে মাদক বিক্রির অভিযোগে তোফাজ্জলকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের আগেই মারধরের শিকার হয়েছেন দাবি করে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমসহ তারা এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তোফাজ্জলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাকে হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ধূমপান করতে দেখা যায়। পরে কথা বলার সময় তিনি তার ওপর হামলার অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, অন্য একজনের জমি কেন বিক্রি করে দিয়েছেন, সেই বিরোধ থেকেই তার ওপর হামলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগে সমবয়সীদের সঙ্গে গাঁজা সেবন করতেন, তবে এখন আর করেন না। তার চাচা তাকে পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে অভিযোগে নাম থাকা স্থানীয় বাসিন্দা শাহ পরান বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কেউ যেন হয়রানি বা হুমকির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, আর এখন আমাদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল ফকির বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেও যদি অভিযোগের মুখে পড়তে হয়, তাহলে মানুষ প্রতিবাদ করতে নিরুৎসাহিত হবে। মাদক বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লার আইনজীবী রাসেল রাফি বলেন, ভুক্তভোগীর ভিডিও বক্তব্যের সঙ্গে অভিযোগকারীর অভিযোগপত্রের তথ্যের মিল নেই বলে তার মনে হয়েছে। তার দাবি, অভিযোগটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযোগপত্র ও ভিডিও বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুল বলেন, কেউ অভিযোগ দিলে সেটি তদন্ত করে দেখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।