প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করা ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন নওগাঁর এক আলোচিত যুবক (৩৫)। প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করার কারণে গত সোমবার রাতে ওই যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং মারধর করে এলাকাছাড়া করা হয়। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন এবং দুই স্ত্রীর মধ্যে একজনকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করার সময় ওই যুবক এই ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার বিষয়ে ইসলামের বিধান সম্পর্কে তাঁর জানাশোনা ছিল না। অজ্ঞতার কারণেই তিনি এমন ভুল পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই ভুলের জন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন, এখন থেকে সমাজ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি তাঁর জীবন পরিচালনা করবেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দুই স্ত্রীকে নিয়ে ওই যুবক যখন শ্বশুরবাড়িতে যান, তখন সোমবার রাত ১০টার দিকে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে দেয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়।

দুই স্ত্রীর মধ্যে একজনকে তালাক দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন এই যুবক। লাইভে তিনি বলেন, “দুজনের মধ্যে একজনকে তালাক দেবেন।” তবে কোন স্ত্রীকে তিনি তালাক দেবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তিনি জানান, পারিবারিকভাবে আলোচনা করে এটি ঠিক করবেন এবং আজ বুধবার বিকেল পাঁচটায় পুনরায় ফেসবুকে লাইভ করে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সবাইকে জানাবেন।

নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা ওই যুবক পেশায় নওগাঁ আদালতের এক আইনজীবীর সহকারী। তিনি প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে জেলার বদলগাছী উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেন। এই ঘটনা জানাজানির পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ওই যুবক দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তিনি এই বিয়ে করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আপন দুই বোনকে বিয়ের বিষয়টি জানাজানির পর এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। ইসলাম ধর্মে ‘একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান নেই’ উল্লেখ করে বদলগাছীতে তাঁরা যে বাসায় ভাড়া থাকতেন, সেই বাসা ছেড়ে দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে সব জিনিসপত্র গুছিয়ে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সোমবার রাতে মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন ওই যুবক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুই স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর পর সোমবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ভিড় করেন। এই বিয়ের ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—এমন অভিযোগ করে তাঁদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে এক যুবক ও দুই নারীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন অনেক মানুষ। যুবককে একজন ধরে রেখেছেন এবং অন্য এক নারী তাঁদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে দিচ্ছেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনকে ‘চুনকালি, চুনকালি’ বলে উল্লাস করতে দেখা যায়। গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই যুবককে কেউ কেউ মারধর করেন।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, “সব ঘটনা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছেন। এ ঘটনায় আজ পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”