কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ বুধবার এই পরিদর্শনের সময় তিনি জানতে পারেন যে, পাঁচজন চিকিৎসক দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এই গুরুতর গাফিলতির প্রেক্ষিতে ওই পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি, অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত আরও সাত চিকিৎসককে অবিলম্বে তাদের মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে উপস্থিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং রোগীদের দেওয়া চিকিৎসাসেবার মান, হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনগুলোর কথা সামনে আসায় সেগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৫১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় ১২ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এর মধ্যে সাতজন অন্য প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে কর্মরত এবং পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, পাঁচজন চিকিৎসক অনুপস্থিত। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চিকিৎসকের সংকট নিরসনে আগামী ১ নভেম্বর নতুন ৪৪৮ জন চিকিৎসকের যোগদানের কথা উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তাঁদের মধ্য থেকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে, তবে নির্দিষ্ট কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে তা তিনি জানাননি।

হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধিতে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিসের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহিলাদের ওপর আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রসূতিদের জন্য ২০টি শয্যা থাকবে। নবজাতক শিশুদের জন্যও ২০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এখানে নারী ও পুরুষের জন্য ফিজিওথেরাপি এবং ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার থাকবে।’ এই প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে উন্নত মনে হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ স্বাস্থ্যসেবার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের ভেতরে বর্জ্য ফেলার স্থানটি খুবই নোংরা। হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমি নেই। পৌরসভাও সেখানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এদিকে, অ্যাম্বুলেন্সের সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংকট দূর করতে একটি অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।