চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে এসেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ দুপুর ১২টায় তিনি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সেবার মান যাচাই করেন। পরিদর্শনে আসা সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এসেছি। ৫০ শয্যার হাসপাতালকে দেড় শ শয্যায় রূপান্তর করা হবে। তার প্রস্তুতি চলছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান যে, হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে। এই সম্প্রসারণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এখানে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৫ জন মেডিক্যাল অফিসার, ৪ জন নার্স, মিডওয়াইফ, ল্যাব টেকনোলজিস্ট, রেডিওগ্রাফারসহ বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সরাসরি রোগীদের সাথে কথা বলেন। তারা যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন কি না এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মানও তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা করেন।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন থেকে উন্নত মানের প্যাথলজি সেবা প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি, নবজাতকদের জন্য ২০টি এবং ডায়ালাইসিসের জন্য ১০টি শয্যা বরাদ্দ রাখা হবে। ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে, যার ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিদিন ২০ জন রোগী এখানে ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন। এর ফলে রোগীদের আর চট্টগ্রামের মূল শহরে যেতে হবে না। পাশাপাশি পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা আলাদা ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপন করা হবে এবং নারী ও পুরুষ উভয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশব্যাপী হাসপাতালগুলো সরেজমিনে দেখার জন্য যাচ্ছি। আপনাদের এখানে আজ এসেছি। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা প্রত্যেক উপজেলায় ১৫১ শয্যার বিশিষ্ট হাসপাতাল করতে যাচ্ছি। যেগুলোতে ৫০ শয্যা আছে, সেখানে আরও ১০১টি যোগ করা হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে।’
সরেজমিনে পরিদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখানে এসেছি। আপনাদের এখানে অনেকগুলো উপজেলার লোকজন এখানে আছে। আমাকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ প্রদান করেছেন সরেজমিনে এসে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। নতুন জনবল দু–এক দিনের মধ্যে যোগদান করবে। আপনারা আরও ভালো সেবা পাবেন।’