রোগীর প্রচণ্ড চাপ এবং শয্যার তীব্র সীমাবদ্ধতা—দীর্ঘদিনের এই দ্বিমুখী সংকটে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল। শয্যার অভাব এতটাই যে, অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের এই করুণ চিত্র স্বচক্ষে দেখে দ্রুত এই সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিকভাবে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী বিভাগগুলো ঘুরে দেখেন এবং সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনের এক পর্যায়ে শয্যার তীব্র সংকটে কয়েকজন রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দ্রুত ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এর পাশাপাশি বর্তমানের এইacute শয্যা সংকট দ্রুততম সময়ের মধ্যে দূর করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেবল পটিয়া উপজেলা নয়, বরং আশপাশের আরও কয়েকটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করেন। প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগী এখানে ভর্তি হন। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রোগীর এই বিপুল চাপের তুলনায় হাসপাতালের শয্যার সংখ্যা, প্রয়োজনীয় জনবল এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই অনেক সময় রোগীদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হয়।
চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, “পটিয়া একসময় মহকুমা সদর ছিল। সে কারণে এখানকার অবকাঠামোও সে অনুযায়ী গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে পটিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসায় রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে।”
তিনি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট, জনবল এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই তিনি এই পরিদর্শনে এসেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়বসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।